রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মঙ্গলবার

১০ মার্চ ২০২৬

৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৯ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

মঙ্গলবার উদ্বোধন হচ্ছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি

চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক: নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক মুক্তি ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে নারী প্রধান পরিবারগুলোর জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে (কড়াইল বস্তি সংলগ্ন) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।

সোমবার (৯ মার্চ) সচিবালয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পাইলট প্রকল্প হিসেবে দেশের ১৩টি জেলার ১৫টি ওয়ার্ডে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রতিটি ওয়ার্ডের পরিবারগুলোর আর্থ-সামাজিক অবস্থা যাচাই করতে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়।

এসব কমিটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের সদস্য সংখ্যা, শিক্ষা, বাসস্থান, আসবাবপত্র, গৃহস্থালী সামগ্রী, রেমিট্যান্সসহ বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে যাচাই-বাছাই করেছে।

পাইলট পর্যায়ে সারাদেশে মোট ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারী প্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পরে সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রক্সি মিনস টেস্ট বা দারিদ্র্য সূচকের ভিত্তিতে পরিবারগুলোকে বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারী প্রধান পরিবারকে ভাতা প্রদানের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে।

এই কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি নারী প্রধান পরিবারকে একটি করে আধুনিক ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। স্পর্শবিহীন (কন্ট্যাক্টলেস) চিপ, কিউআর কোড ও এনএফসি প্রযুক্তি সম্বলিত এই কার্ড নিরাপদ ও সহজে ব্যবহারযোগ্য হবে। একটি পরিবারের সর্বোচ্চ পাঁচজন সদস্যের জন্য একটি কার্ড দেওয়া হবে। তবে যৌথ পরিবারের সদস্য সংখ্যা বেশি হলে প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিক কার্ড দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীরা পাইলট পর্যায়ে মাসিক দুই হাজার ৫০০ টাকা ভাতা পাবেন। ভবিষ্যতে একই মূল্যের খাদ্যপণ্য সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।

তবে যেসব পরিবারের কোনো সদস্য সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন, পেনশন পান, বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, বাণিজ্যিক লাইসেন্স আছে, বিলাসবহুল সম্পদ যেমন গাড়ি বা এসি রয়েছে কিংবা পাঁচ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র আছে— সেসব পরিবার এ ভাতা পাওয়ার যোগ্য হবে না।

সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় জি-টু-পি (গভর্নমেন্ট টু পারসন) পদ্ধতিতে ভাতার টাকা সরাসরি উপকারভোগী নারীর মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে।

পাইলট পর্যায়ে জুন ২০২৬ পর্যন্ত কর্মসূচি বাস্তবায়নে মোট ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ২৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা সরাসরি নগদ সহায়তা হিসেবে এবং বাকি অর্থ তথ্য সংগ্রহ, অনলাইন সিস্টেম ও কার্ড প্রস্তুতিসহ কর্মসূচি বাস্তবায়নে ব্যয় করা হবে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পুরো প্রক্রিয়া সফটওয়্যারভিত্তিক হওয়ায় উপকারভোগী নির্বাচনে দুর্নীতি বা স্বজনপ্রীতির সুযোগ থাকবে না।