বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

শনিবার

২৫ এপ্রিল ২০২৬

২০শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

আগের শাসনামলে আর্থিক খাতে ‘ধ্বংসযজ্ঞ’—অর্থমন্ত্রী

চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক: আগের সরকারের সময়ে আর্থিক খাত অতিরিক্ত রাজনীতিকরণের কারণে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো প্রায় ‘খালি হয়ে গেছে’ বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, অতীতের সেই পরিস্থিতির প্রভাব এখনও অর্থনীতিতে রয়ে গেছে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের সময়কালও খুব সন্তোষজনক ছিল না।

শনিবার বিকেলে সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় এসব কথা বলেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন,  “আর্থিক খাতে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে, তার প্রধান কারণ হচ্ছে অতিরিক্ত রাজনীতিকরণ। এর ফলে ব্যাংকগুলো আজ খালি হয়ে গেছে। শেয়ারবাজার লুটপাটের কারণে প্রায় শেষ হয়ে গেছে।”

তিনি আরও বলেন, ব্যাংক খাত বর্তমানে আন্ডার ক্যাপিটালাইজড অবস্থায় রয়েছে। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতও পুঁজির ঘাটতিতে ভুগছে।

তার ভাষায়, “৪০ শতাংশ মুদ্রার অবমূল্যায়ন এবং ১৪ শতাংশ মূল্যস্ফীতির কারণে ব্যবসায়ীদের পুঁজি ক্ষয় হয়েছে। ফলে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান ঠিকমতো কার্যক্রম চালাতে পারছে না। অনেক ক্ষেত্রে আন্ডার পারফরম্যান্স দেখা যাচ্ছে এবং কর্মসংস্থানও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”

অর্থমন্ত্রী জানান, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যাংক ও ব্যবসা খাতকে পুনরায় পুঁজিযুক্ত (রিক্যাপিটালাইজ) করা প্রয়োজন। তবে সরকারের তহবিলে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় পুরো প্রক্রিয়াটি সহজ নয়।

তিনি বলেন, “সরকারের কাছে এত অর্থ নেই যে সব প্রতিষ্ঠানকে একসঙ্গে রিক্যাপিটালাইজ করা যাবে। আমরা এমন একটি অর্থনীতি পেয়েছি যা দীর্ঘদিনের পৃষ্ঠপোষকতামূলক রাজনীতির ফল।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের অর্থনীতি কিছু অলিগার্কের হাতে চলে গিয়েছিল। পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতির মাধ্যমে কয়েকজনের নিয়ন্ত্রণে অর্থনীতি চলে যায়, যার কারণে নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়াও প্রভাবিত হয়েছে।”

এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে অর্থনীতির ‘গণতান্ত্রিকায়ন’ জরুরি বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “শুধু রাজনীতির গণতন্ত্রায়ন নয়, অর্থনীতিকেও গণতান্ত্রিক করতে হবে।”

প্রান্তিক মানুষের কাছে সরকারি সুবিধা পৌঁছে দিতে সরকার ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান তিনি।

এছাড়া শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে দেশের ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ কাজে লাগানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী অর্থবছর থেকেই এসব উদ্যোগের ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাবে।