মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বৃহস্পতিবার

১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

৭ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১১ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

ভাইয়ের প্রেসক্রিপশনে চিকিৎসা প্রদান করছে হারুন

ডেস্ক রিপোর্ট: পটুয়াখালীর মহিপুরে ‘এশিয়া ডেন্টাল’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসার নামে প্রতারণা চলছে। ডাক্তার না হয়েও নামের আগে ব্যবহার করছেন ‘ডা.’ উপাধি। ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা ভিজিট ফি নিয়ে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করছেন হারুন-অর-রশীদ নামের এক দন্ত চিকিৎসক। অভিযোগ উঠেছে, তিনি নিজের ভাইয়ের প্রেসক্রিপশন ব্যবহার করে রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে আসছেন।

সম্প্রতি আদনান নামে ৪ বছর বয়সী এক শিশুকে চিকিৎসা করাতে গিয়ে ধরা পড়ে এমন অনিয়ম । চক্ষু সেবা কেন্দ্রের মালিক ডা. আব্দুল হাকিমের কাছে চিকিৎসা নিতে গেলে দেখা যায়, তার প্রেসক্রিপশনে চিকিৎসা দিচ্ছেন ভাই হারুন, তবে নিজের পরিচয় গোপন করে এ কাজ করছেন তিনি।

অভিযুক্ত হারুন স্বীকার করেন, তিনি চিকিৎসক নন। তিনি বলেন, ভাইয়ের (ডা. হাকিম) কাছে ছবি পাঠিয়ে তার দেওয়া ওষুধ প্রেসক্রিপশনে লিখে দিই। আমি সরাসরি চিকিৎসক নই, তবে যা লিখেছি তাতে রোগী সুস্থ হবে।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই এশিয়া ডেন্টালে এভাবে প্রতারণা চলছে। মোবাইল ফোনে তথ্য নিয়ে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এতে অনেক রোগী সঠিক চিকিৎসার অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ ছাড়া ডা. আব্দুল হাকিমের বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজে না থেকে অন্যদের দিয়ে নিজের প্রেসক্রিপশন ব্যবহার করে রোগীদের চিকিৎসা করাচ্ছেন।

মহিপুরের বাসিন্দা মো. শাহজাহান কাজী বলেন, ‘হারুন তো দাঁতের চিকিৎসক, অথচ অন্য চিকিৎসা দিচ্ছেন। সেরাজপুরের হারুন মাঝির একটি দাঁতের সমস্যা ছিল, কিন্তু তিনি ভুল করে অন্য দাঁত তুলে দেন। আমরা এর বিচার চাই।’

অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল হাওলাদার বলেন, হারুন দাঁতের চিকিৎসা দেন, তার ভাই চোখের চিকিৎসক। অথচ হারুন তার ভাইয়ের প্রেসক্রিপশনে চোখের চিকিৎসা করেন। এতে প্রায়ই রোগীদের সঙ্গে ঝামেলা হয়।

কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শংকর প্রসাদ অধিকারী বলেন, একজনের ব্যবস্থাপত্রে অন্য কারও চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ নেই। শিগগিরই বিষয়টি তদন্ত করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সহায়তায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।

পটুয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন ডা. খালেদুর রহমান মিয়া বলেন, অন্যের প্রেসক্রিপশন ব্যবহার করা অপরাধ। খোঁজ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগে জরুরি তদন্ত দাবি করেছেন ভুক্তভোগী রোগী ও সচেতন মহল।