রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মঙ্গলবার

১৮ নভেম্বর ২০২৫

৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৯ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

Logo

‘ন্যায়বিচার হলেও বিচারপ্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ’—হাসিনা রায় নিয়ে আইসিজি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চব্বিশের জুলাই–আগস্টে সংঘটিত গণহত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডাদেশ বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ (আইসিজি)।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষণার পর সোমবার এক বিবৃতিতে এ মন্তব্য করেছে বেলজিয়ামভিত্তিক সংস্থাটি। তারা জানিয়েছে, বিচারপ্রক্রিয়া পুরোপুরি সমালোচনামুক্ত না হলেও শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর, এবং রায় ঘোষণার ফলে তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ প্রায় অনিশ্চিত হয়ে গেছে।

আইসিজির বাংলাদেশবিষয়ক জ্যেষ্ঠ কনসালট্যান্ট থমাস কিয়ান বলেছেন, মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনার দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রায়কে বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে স্বাগত জানানো হবে।

২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে বিক্ষোভকারীদের ওপর সংঘটিত নৃশংসতার দায় নিয়ে সন্দেহের সুযোগ নেই বলে দাবি করেন তিনি। সংস্থাটি উল্লেখ করে, জাতিসংঘের তথ্য-অনুসন্ধান প্রতিবেদনে গত বছর বিক্ষোভে ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হওয়ার তথ্যও এ ঘটনার গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করেছে।

তবে বিচারটি সমালোচনার বাইরে নয় বলে জানায় আইসিজি। আসামির অনুপস্থিতিতে বিচার, দ্রুত শুনানি এবং প্রতিরক্ষার সুযোগসুবিধার ঘাটতিকে সুষ্ঠু বিচারের জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে সংস্থাটি।

তাদের মতে, এসব বিষয় বাংলাদেশের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি সমস্যাগুলোকে সামনে নিয়ে আসে। যদিও এসব সমালোচনা শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি অংশের কর্মকাণ্ডকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ তৈরি করে না।

আইসিজি বলেছে, এ রায়ের ফলে শেখ হাসিনার বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফিরে আসার সম্ভাবনা খুব কম। তিনি যতদিন আওয়ামী লীগের ওপর নিয়ন্ত্রণ ছাড়তে রাজি না হবেন, ততদিন দলটিরও সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরা সহজ হবে না।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে বলেও মন্তব্য করেছে সংস্থাটি। সাম্প্রতিক বোমা হামলার ঘটনা এবং আওয়ামী লীগের ‘লকডাউন’ কর্মসূচি পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে।

সংস্থাটি পরামর্শ দিয়েছে, আওয়ামী লীগের উচিত সহিংস কর্মকাণ্ড থেকে সরে আসা এবং অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত দলটির সমর্থকদের ওপর অতিরিক্ত দমনপীড়ন বন্ধ করা। আইসিজির দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে সংযম ও রাজনৈতিক সংলাপই হতে পারে উত্তেজনা কমানোর পথ।