রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড দ্রুত কার্যকর করুন’—এনসিপির দাবি

চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর দ্রুত সময়ের মধ্যে রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

- Advertisement -

সোমবার (১৭ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এ দাবি জানান।

এর আগে বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ জুলাই গণঅভ্যুত্থান দমানোর চেষ্টায় মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়। একই মামলায় তার সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। দুজনই বর্তমানে ভারতে পলাতক।

সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম বলেন, “গুম ও গণহত্যার দায়ে দণ্ডিত অপরাধী পৃথিবীর ইতিহাসেই নিকৃষ্টতম। খুনি ও ফ্যাসিস্ট শাসক হিসেবে শেখ হাসিনা পরিচিতি পেয়েছে। তার বিচারের মধ্য দিয়ে স্বৈরশাসকদের জবাবদিহির একটি নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি হলো।”

তিনি আরও দাবি করেন, “আগামী এক মাসের মধ্যে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে রায় কার্যকর করতে হবে। বিগত ১৬ বছরে আওয়ামী লীগের শাসনামলে সংঘটিত অপরাধের বিচারের লড়াইয়ে আমরা এক ধাপ এগিয়েছি।”

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালসহ আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগের “অভিযুক্ত নেতাকর্মী ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের” দ্রুত বিচারে আনারও দাবি জানান তিনি।

এ ছাড়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন রাজসাক্ষী হিসেবে পাঁচ বছরের যে দণ্ড পেয়েছেন, তা “যথেষ্ট নয়” বলে মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম। তার মতে, আরও কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত ছিল।

উল্লেখ্য, যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আজ শেখ হাসিনার সর্বোচ্চ সাজা ঘোষণা করেছে, সেই আদালত গঠন করা হয়েছিল তারই সরকারের সময়ে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার উদ্দেশ্যে। এই ট্রাইব্যুনালের রায়ের ভিত্তিতেই আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জামায়াতে ইসলামীর পাঁচ শীর্ষ নেতা এবং বিএনপির এক নেতার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল।

জুলাই আন্দোলন দমনে ১৪০০ জনকে হত্যা, এবং “সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি” ও “জয়েন্ট ক্রিমিনাল এন্টারপ্রাইজ”–সহ মোট ৫টি অভিযোগে শেখ হাসিনা ও অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা চলেছিল।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও