বৃহস্পতিবার
১৮ ডিসেম্বর ২০২৫
৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৯ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক: অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার সাংবাদিক আনিস আলমগীরের মুক্তি দাবি করেছে। সংস্থার গবেষক রিহ্যাব মাহামুর এক বিবৃতিতে বলেছেন, “কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সমর্থক সন্দেহে নিশানা করার যে উদ্বেগজনক প্রবণতা চলছে, আনিস আলমগীরকে গ্রেপ্তার তারই ধারাবাহিকতা।
সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপব্যবহার করে মানুষের মত প্রকাশ বন্ধ করার চেয়ে অন্তর্বর্তী সরকার ও কর্তৃপক্ষের উচিত মানুষকে স্বাধীনভাবে কথা বলার এবং সংগঠিত হওয়ার সুযোগ দেওয়া, বিশেষ করে নির্বাচনের আগের এই সময়ে।”
রোববার রাত ৮টার পর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল আনিস আলমগীরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায়। এরপর ‘জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স’ নামে একটি সংগঠন আনিস আলমগীর, অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওনসহ চারজনের বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা নষ্টের ষড়যন্ত্র এবং নিষিদ্ধ সংগঠনকে উসকে দেওয়ার’ অভিযোগ আনে।
উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়েরকৃত সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সোমবার সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।
সংবাদমাধ্যমকে আদালতে তিনি বলেন, “আমি একজন সাংবাদিক। আমি ক্ষমতাকে প্রশ্ন করি। আমি দুই দশক ধরে এই কাজ করছি। আমার কাজ কারও কাছে মাথা নত করা নয়।”
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, “নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের আন্তর্জাতিক সনদ অনুযায়ী অন্তর্বর্তী সরকারকে আনিস আলমগীরের অধিকার রক্ষা করতে হবে এবং তাকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।”
সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশোধনের পর থেকে আইনটি কথিত আওয়ামী লীগ সমর্থকদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে, যার মধ্যে সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম পান্নাও রয়েছেন। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, মত প্রকাশ ও সংগঠিত হওয়ার স্বাধীনতা দমনে এই আইন ব্যবহারের প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকে সামনে রেখে নিবর্তনমূলক আইনের অপব্যবহার বন্ধের আহ্বান জানিয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, সবার মানবাধিকার সুরক্ষা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে।