রবিবার
১৮ জানুয়ারি ২০২৬
৬ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১০ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


নিজস্ব প্রতিবেদক: জুলাই–আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে যারা শহীদ ও আহত হয়েছেন, তারা সবাই মুক্তিযোদ্ধা বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা যেমন দেশের স্বাধীনতা অর্জন করেছিলেন, ঠিক তেমনি ২০২৪ সালে জুলাই যোদ্ধারা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছেন।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, একটি নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে আমরা যদি ব্যর্থ হই, তাহলে ভবিষ্যতেও শোক সমাবেশ আর শোকগাথাই লিখতে হবে। তিনি বলেন, “আর শোক সমাবেশ নয়, আসুন আমরা একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে গণতন্ত্রের বিজয়গাথা রচনা করি।”
সভায় জুলাই–আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত এক হাজার ৪০০ পরিবারের সদস্যদের আমন্ত্রণ জানানো হয়।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, দলটি সরকার গঠন করলে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় একটি পৃথক বিভাগ গঠন করা হবে। এই বিভাগের দায়িত্ব থাকবে জুলাই শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের দেখভাল করা। তিনি বলেন, “আমরা হারানো স্বজনকে ফিরিয়ে দিতে পারবো না, কিন্তু তাদের পরিবারের কষ্ট লাঘবে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব অবশ্যই পালন করবো।”
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হাজার হাজার মানুষ গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। শুধু জুলাই গণঅভ্যুত্থানেই দেড় হাজারের বেশি মানুষ শহীদ এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। অনেকেই স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। “এই হত্যাকাণ্ডকে এক কথায় গণহত্যা বলা যায়,” বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান কোনো দল বা গোষ্ঠীর আন্দোলন ছিল না। এটি ছিল দল-মত-ধর্ম নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের গণআন্দোলন, যার লক্ষ্য ছিল জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে হলে সুষ্ঠু নির্বাচন অপরিহার্য। জনগণের রায়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে শহীদ ও আহতদের প্রতি দেওয়া প্রতিশ্রুতি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে, ইনশাআল্লাহ।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। এতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুস ছাত্তার পাটোয়ারী এবং তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে তারেক রহমান জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।