বৃহস্পতিবার
০৯ এপ্রিল ২০২৬
৬ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১০ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি


চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক: বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বৃহস্পতিবার দুই আসনের নির্বাচনে প্রমাণিত হয়েছে যে, “যেই লাউ সেই কদু।” তিনি উল্লেখ করেছেন, এতদিন বিএনপির সমস্ত বুলি ছিল মানুষকে ধোঁকা দেওয়া ও প্রতারণা করা। এখন তারা সেই একই ফ্যাসিজমের পথে এগোচ্ছে। দেশের জনগণকে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, জামায়াত আগের মতো ফ্যাসিজম মেনে নেবে না এবং নতুন ফ্যাসিজমও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রুখে দেবে।
বৃহস্পতিবার রাতে জাতীয় সংসদ ভবনে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দুই আসনের নির্বাচন প্রসঙ্গে অনেকেই বলেছেন—‘৯৪ সালে ছিল মাগুরায়, এবার হল বগুড়ায়। শুধু নাম পরিবর্তন হয়েছে, স্টাইল একই রয়ে গেছে।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, শেরপুরে তাদের একজন উপজেলা সেক্রেটারিকে হত্যা করা হয়েছিল, এবার আরেক উপজেলা সেক্রেটারিকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি স্পিকারের মাধ্যমে খুনিদের বিচারের দাবিও জানিয়েছেন।
সংসদে ওয়াকআউটের প্রসঙ্গ তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার দুই দফার সংসদ অধিবেশনে কিছু বিল জনস্বার্থে প্রয়োজন মনে করে অনুমোদন করা হয়েছে, কিন্তু কিছু বিলের মাধ্যমে জনগণের অধিকার হরণ, সুপ্রীম কোর্টের এখতিয়ার হরণ এবং নির্বাচনি ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার চেষ্টা করা হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেছেন, বিরোধীদলকে কথার সুযোগ দিতে সময় সীমিত রাখা হয়েছে, অথচ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের জন্য কোনো সীমাবদ্ধতা ছিল না।
তিনি আরও বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা জরুরি। তারা দেখেছেন, নির্বাহী বিভাগের প্রভাব থাকলে বিচার ব্যবস্থায় দুর্ঘটনা ঘটবে এবং জনগণ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হবে। জামায়াতের বক্তব্য, ফ্যাসিজম জন্ম দেয়ার পদ্ধতি আবার বিচার ব্যবস্থায় ফিরে আসুক—এটা তারা কামনা করেন না।
স্থানীয় সরকারের চারটি বিলের প্রসঙ্গেও ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ইতিমধ্যেই প্রশাসক নিয়োগ করে স্থানগুলোকে দলীয় করা হয়েছে, যা বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার ও ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাবের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এভাবে সব প্রতিষ্ঠানকে একদলীয় করে একটি নতুন ফ্যাসিজম বা বাকশাল তৈরি করা হচ্ছে।
ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, তারা জনগণের পক্ষে অবস্থান নেবেন। তাই দুই-তৃতীয়াংশের মেজরিটির মাধ্যমে পাস করা জনবিরোধী আইন ও প্রস্তাবের প্রতিবাদে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছেন, তবে সংসদ বর্জন করেননি। জনস্বার্থ বিরোধী কিছু হলে তাদের কণ্ঠ আবারও জনগণের অধিকারের পক্ষে উঠবে।
এসময় বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম ও সিনিয়র সংসদ সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।