সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আনন্দ, ভিড় আর সমুদ্র—বড়দিনে কক্সবাজারের দিনলিপি

কক্সবাজার প্রতিনিধি:

খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব বড়দিন। সরকারি ছুটির এই দিনে উৎসবের রঙ ছড়িয়ে পড়েছে দেশের পর্যটন রাজধানী কক্সবাজারে। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল থেকেই শহরজুড়ে দেখা গেছে পর্যটকের রেকর্ড সমাগম। সৈকত, হোটেল, সড়ক—সবখানেই শুধু মানুষ আর মানুষ।

- Advertisement -

বালুকাবেলায় পা রাখলেই চোখে পড়ে অবকাশযাপনের দৃশ্য। কেউ দল বেঁধে ছবি তুলছেন, কেউ ঢেউয়ের সঙ্গে খেলায় মেতেছেন, কেউ আবার পরিবার-পরিজন নিয়ে বসে উপভোগ করছেন সমুদ্রের নীল জলরাশি। শীতের মৃদু আবহাওয়ায় কক্সবাজার যেন হয়ে উঠেছে উৎসবের মিলনমেলা।

রাজধানীর মিরপুর থেকে পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসা আরিফুল হুদা বলেন, কক্সবাজার তার কাছে বরাবরের প্রিয়। সুযোগ পেলেই এখানে আসেন তিনি। শীতের সময় সমুদ্রের পরিবেশ আরও বেশি মনোমুগ্ধকর হয়ে ওঠে বলেও জানান তিনি।

তবে আনন্দের এই ভিড়ের মাঝেই ভেসে উঠছে কিছু ভিন্ন চিত্র। পর্যটকদের অভিযোগ—বাড়তি খরচ, পরিবহন ভাড়া নিয়ে দরকষাকষি, খাবারের অতিরিক্ত দাম এবং সৈকত এলাকায় কিছু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর অযাচিত চাপ আনন্দে ভাটা ধরাচ্ছে।

সিরাজগঞ্জ থেকে আসা ব্যবসায়ী শামসুল আলম বলেন, কক্সবাজারে এলেই খরচ বেড়ে যায়। অল্প দূরত্বে অটোরিকশার ভাড়া অস্বাভাবিক বেশি, খাবারের দামও নাগালের বাইরে। এসব বিষয়ে প্রশাসনের আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

বড়দিনকে ঘিরে শহরের অভিজাত হোটেলগুলোও সাজানো হয়েছে উৎসবের সাজে। আলোকসজ্জা, বিশেষ খাবার ও বিনোদনমূলক আয়োজনের মাধ্যমে পর্যটকদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা চলছে। হোটেল-মোটেল সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কক্সবাজারের পাঁচ শতাধিক হোটেল-মোটেলের প্রায় সব কক্ষই আগাম বুকিং হয়ে গেছে।

হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার জানান, সাপ্তাহিক ছুটি, বড়দিন ও বছর শেষের উৎসব—সব মিলিয়ে পর্যটনের ভরা মৌসুম চলছে। এই সময়ে পর্যটন খাতে শত কোটি টাকারও বেশি বাণিজ্যের সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে বিপুল পর্যটক সমাগমের কারণে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় তৎপর রয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। নিয়মিত মনিটরিংয়ের পাশাপাশি হয়রানি রোধে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে।

ট্যুরিস্ট পুলিশের কক্সবাজার রিজিয়নের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান দায়িত্ব। কোনো ধরনের হয়রানির অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পর্যটকদের সহায়তায় নির্ধারিত হেল্পলাইন নম্বর ০১৩২০১৬০০০০-এ যোগাযোগের আহ্বান জানান তিনি।

উৎসবের আনন্দ, সমুদ্রের সৌন্দর্য আর মানুষের উচ্ছ্বাসে কক্সবাজার এখন যেন এক বিশাল উৎসব নগরী—যেখানে আনন্দের পাশাপাশি চ্যালেঞ্জও সমানতালে উপস্থিত।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও