মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি চললেও বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন-এর জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি না পেয়ে সেখানে আটকে রয়েছে।
আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে জাহাজটি প্রায় ৪০ দিন ধরে ওই এলাকায় অবস্থান করছিল। যুদ্ধবিরতির পর গত বুধবার সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে এটি প্রণালির দিকে অগ্রসর হয়।
তবে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে প্রণালির কাছাকাছি পৌঁছালে ইরানি কর্তৃপক্ষ ট্রানজিট ক্লিয়ারেন্সের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদুল মালেক বলেন, ইরানি নির্দেশনা অনুযায়ী ক্লিয়ারেন্স চাওয়া হলেও তা নাকচ করা হয়েছে। অনুমতি পাওয়ার জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
কর্মকর্তারা জানান, বিকল্প না থাকায় জাহাজটিকে নিরাপদ বন্দরে ফিরে যেতে হতে পারে এবং নতুন করে অনুমতির জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।
জাহাজটিতে ৩১ জন নাবিক রয়েছেন। তাদের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত রয়েছে এবং সমুদ্রের পানি লবণমুক্ত করে প্রতিদিন প্রায় ১৮ টন মিঠা পানি উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে তা সীমিত করে দৈনিক প্রায় ৬ টনে রাখা হয়েছে।
নাবিকদের মনোবল ধরে রাখতে দৈনিক খাবার ভাতা ৭ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১২ ডলার করা হয়েছে এবং মৌলিক বেতনের সমপরিমাণ অতিরিক্ত যুদ্ধ ভাতাও দেওয়া হচ্ছে।
বিএসসি সূত্র জানায়, জাহাজটি ভারত থেকে যাত্রা করে গত ২ ফেব্রুয়ারি পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে। পরে কাতার থেকে স্টিল কয়েল নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাবেল আলী বন্দরে পৌঁছে।
১১ মার্চ পণ্য খালাসের পর কুয়েতে যাওয়ার কথা থাকলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে জাহাজটিকে সংঘাতপূর্ণ এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, ‘বাংলার জয়যাত্রা’ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিএসসি বহরে যুক্ত হওয়া নতুন জাহাজগুলোর একটি।

