একীভূত হওয়া পাঁচ ইসলামী ধারার ব্যাংকের গ্রাহকেরা ‘হেয়ার কাট’ বাতিল, লেনদেন স্বাভাবিককরণ এবং আমানতের টাকা ফেরতের দাবিতে চট্টগ্রামে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন।
সোমবার (১১ মে) নগরের এনায়েত বাজার এলাকায় গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন শাখার সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন ভুক্তভোগী আমানতকারীরা।
আন্দোলনকারীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের জমাকৃত অর্থ উত্তোলন করতে না পেরে তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। সকালে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের শাখায় অবস্থান নিয়ে তারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নির্বাচিত সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক এখনো কার্যকর কোনো সমাধান দিতে পারেনি। সাবেক গভর্নরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২৪ ও ২০২৫ সালের আমানতের বিপরীতে মাত্র ৪ শতাংশ মুনাফা দেওয়ার প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে লাখো গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলেও দাবি করেন তারা।
এক আমানতকারী বলেন, “কষ্টার্জিত টাকা ব্যাংকে রেখে আজ আমরা অনিশ্চয়তায় আছি। সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংককে এ বিষয়ে আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।”
আরেক গ্রাহক বলেন, “প্রায় এক বছর ধরে ব্যাংকে ঘুরছি। সন্তানদের সেমিস্টার ফি দিতে পারছি না, ঈদের কেনাকাটাও করতে পারিনি। আমরা ব্যাংক ছাড়তে চাই না, তবে লেনদেন স্বাভাবিক করে ধাপে ধাপে হলেও টাকা ফেরত দিতে হবে।”
গ্রাহকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক একীভূত হয়ে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠনের পর থেকেই তারা নানা সীমাবদ্ধতার মুখে পড়েছেন।
তাদের অভিযোগ, ‘হেয়ার কাট’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমানতের একটি অংশ আটকে রাখার সিদ্ধান্ত গ্রাহকদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণের শামিল।
আন্দোলনকারীরা তিন দফা দাবি জানিয়েছেন— অবিলম্বে আমানতের টাকা ফেরত, ‘হেয়ার কাট’ বাতিল এবং সব ধরনের ব্যাংকিং লেনদেন স্বাভাবিক করা।

