চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় ধর্ষণের চেষ্টার শিকার চার বছরের শিশুকে দেখতে গিয়ে সমাজে মূল্যবোধের অবক্ষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে সমাজের ‘মানুষরূপী শয়তানদের’ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়, এজন্য প্রয়োজন সামাজিক প্রতিরোধ ও সচেতনতা।
শুক্রবার (২২ মে) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে গিয়ে আহত শিশুটির খোঁজ নেন জেলা প্রশাসক।
তিনি বলেন, “ঘটনার পর শুধু প্রতিবাদ করলেই হবে না, অপরাধ ঘটার আগেই সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।”
জেলা প্রশাসক জানান, শিশুটি শারীরিকভাবে কিছুটা সুস্থ হলেও ভয়াবহ মানসিক ট্রমার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, “আমারও একটি কন্যা আছে। মেয়েটিকে দেখে খুব খারাপ লেগেছে—একদম ফুলের মতো একটি শিশু।”
ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিস্থিতি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।
অপরাধ দমনে সামাজিক ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, অপরাধীদের ধরতে বিশেষায়িত বাহিনী কাজ করলেও সমাজের ভেতরে লুকিয়ে থাকা অপরাধপ্রবণ ব্যক্তিদের ঠেকাতে পরিবার, সমাজ ও সচেতন নাগরিকদের এগিয়ে আসতে হবে।
ঘটনা কাভার করতে গিয়ে আহত সাংবাদিকদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বহন করা হবে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার ঘটনাকেও উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন।
মাদক সমস্যার প্রসঙ্গে মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, শুধু গ্রেপ্তার বা কারাগারে পাঠিয়ে অপরাধ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সমাজের ভালো মানুষদের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং ইতিবাচক কাজগুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে। তাহলেই সামাজিক পরিবর্তন সম্ভব।

