সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জনের জন্য জনগণকে বিভ্রান্ত না করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। বিরোধীদলের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, জ্বালানি সংকট থাকলে লংমার্চে ব্যবহারের জন্য ১ লাখ লিটার তেল কোথা থেকে আসবে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
মীর শাহে আলম বলেন, ‘আমরা হিসাব করে দেখেছি, তারা ৫ তারিখের পর লংমার্চে যাবে এবং লংমার্চে যে পরিবহন ব্যবহার করবে, সেখানে ১ লাখ লিটার তেল তারা ব্যবহার করবে।
জ্বালানির যদি সমস্যাই হয়, তাহলে বিরোধীদল এই ১ লাখ লিটার তেল কোথায় পাবে? নিশ্চয়ই তেলের সমস্যা নেই এবং তেলগুলো তারা গাড়িতে উঠিয়েই লংমার্চে যাবে।’
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের ঘোষিত কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কর্মসূচিতে অন্তত এক হাজার গাড়ি যুক্ত হওয়ার কথা জানিয়েছেন আয়োজকেরা।
বিরোধীদলের কর্মসূচি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিরোধীদলের কর্মসূচি মোকাবিলা করার কিছু নেই। তারা গণতান্ত্রিক পন্থায় শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করলে সরকার সহযোগিতা করবে। কারণ এটি একটি গণতান্ত্রিক সরকার।’
তবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘মঞ্চের পেছনে ফ্যান চালিয়ে আপনি যদি বলেন যে বিদ্যুৎ নেই, দিতে হবে—এই বিষয়টি সাধারণ মানুষকে বিবেচনা করতে হবে।’
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহে সাময়িক অসুবিধার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে জানিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী চলতি সংসদে সরকারের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি দেশবাসীর সামনে তুলে ধরবেন। তখন সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে জাতির কাছে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে যা বললেন প্রতিমন্ত্রী
চলতি অর্থবছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ–সংক্রান্ত পাঁচটি অর্ডিন্যান্স সংসদে আইন হিসেবে পাস হয়েছে।
এসব নির্বাচনে দলীয়ভাবে মনোনয়ন এবং জাতীয় প্রতীকে নির্বাচনের বিধান বিলুপ্ত করা হয়েছে। ফলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো সাধারণ প্রতীকে ও নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হবে।
তবে রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের রাজনীতি ও সাংগঠনিক অবস্থান বিবেচনায় প্রার্থীদের সমর্থন দিতে পারবে বলে জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, জেলা ও উপজেলা বিএনপি ইউনিয়ন, পৌরসভা, উপজেলা, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে কাকে সমর্থন দেওয়া হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে থাকা নেতাদের প্রার্থী হিসেবে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, যারা ১৭ বছর মাঠে ছিলেন, মামলা-হয়রানির শিকার হয়েছেন এবং সাধারণ মানুষের ভোটে জয়ী হওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাদের সমর্থনের ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
একই সঙ্গে তিনি বলেন, আন্দোলনে অভিজ্ঞতা থাকলেও নির্বাচনের মাঠে যাদের অভিজ্ঞতা কম, তাদের ক্ষেত্রে দলীয় সমর্থনের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে না। আবার যারা ১৭ বছর মাঠে ছিলেন না, তাদেরও সমর্থন না দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তার করা হবে না জানিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনা রয়েছে—নির্বাচনগুলোতে সরকার কোনো রকম প্রভাব বিস্তার করবে না।
তিনি বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সরকার, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নির্বাচন কমিশনকে শতভাগ সহযোগিতা করবে।
দলীয় সমর্থনের বাইরে কেউ নির্বাচনে অংশ নিলে বহিষ্কার করা হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে স্থানীয় বিএনপি সিদ্ধান্ত নেবে। কেন্দ্র থেকে যেহেতু মনোনয়ন বা সমর্থন দেওয়া হচ্ছে না, তাই কেন্দ্র থেকেও বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।

