শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

তিন দশক পরও অমলিন সালমান শাহ, স্মৃতিতে আজও ‘অমর নায়ক’

বিনোদন ডেস্ক:

আজ থেকে ঠিক ৩০ বছর আগে, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর। দিনটি ছিল শুক্রবার। ঢাকাই চলচ্চিত্রে নেমে এসেছিল শোকের ছায়া। মাত্র ২৪ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ।

- Advertisement -

সময়ের হিসাবে আজ সেই অমর নায়ককে হারানোর তিন দশক পূর্ণ হলো। তিন দশক পেরিয়ে গেলেও কোটি দর্শকের হৃদয়ে এখনো অপ্রতিদ্বন্দ্বী এক নায়ক হয়েই আছেন তিনি।

সালমান শাহর পারিবারিক নাম শাহরিয়ার চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন। ১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। বাবা কমর উদ্দিন চৌধুরী ও মা নীলা চৌধুরীর বড় সন্তান ছিলেন সালমান শাহ।

ছোটবেলা থেকেই গান, মডেলিং ও অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ ছিল তার। শিশুদের বিভিন্ন টেলিভিশন অনুষ্ঠানেও নিয়মিত দেখা যেত তাকে। পরবর্তী সময়ে মডেলিংয়ের মাধ্যমে বিনোদন অঙ্গনে পরিচিতি পান তিনি।

চলচ্চিত্রে আগমনটা ছিল হঠাৎ

চলচ্চিত্রে সালমান শাহর আগমনটা হয়েছিল অনেকটা হঠাৎ করেই। শুরুতে অভিনয়কে পেশা হিসেবে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল না তার। এমনকি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব পাওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকেও আপত্তি ছিল।

পরবর্তীতে পরিবারের সম্মতি নিয়ে রূপালি পর্দায় পা রাখেন তিনি। এক সাক্ষাৎকারে সালমান শাহ নিজেই জানিয়েছিলেন, পেশাদার শিল্পী হিসেবে সিনেমায় অভিনয় করবেন—এমনটা কখনো কল্পনাও করেননি। কিন্তু সেই হঠাৎ শুরুই তাকে পরিণত করে ঢালিউডের অন্যতম জনপ্রিয় নায়কে।

চার বছরের ক্যারিয়ারে অনন্য জনপ্রিয়তা

নব্বইয়ের দশকে চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশ করেই দর্শকদের নজর কাড়েন সালমান শাহ। মাত্র চার বছরের ক্যারিয়ারে একের পর এক ব্যবসাসফল সিনেমা উপহার দিয়ে নিজের আলাদা অবস্থান তৈরি করেন তিনি।

শুধু অভিনয় নয়, ফ্যাশন ও স্টাইলেও সময়ের চেয়ে অনেকটা এগিয়ে ছিলেন এই নায়ক। মাথায় ব্যান্ডানা, চোখে সানগ্লাস, সঙ্গে বাইক—তার এই স্বতন্ত্র স্টাইল তরুণদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।

তার পোশাক, চুলের স্টাইল ও ব্যক্তিত্ব নব্বইয়ের দশকের দর্শকদের কাছে নতুন এক নায়কোচিত ভাবমূর্তি তৈরি করে। প্রাণবন্ত হাসি, সাবলীল অভিনয় ও পর্দায় উপস্থিতির কারণে অল্প সময়েই তিনি হয়ে ওঠেন দর্শকের প্রিয় ‘সালমান শাহ’।

অকাল মৃত্যুতে অপূরণীয় ক্ষতি

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের নিজ বাসায় তার মৃত্যু হয়। তার আকস্মিক মৃত্যু পুরো দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনকে নাড়িয়ে দেয়। মাত্র ২৪ বছর বয়সে থেমে যায় সম্ভাবনাময় এক ক্যারিয়ার।

সালমান শাহর মৃত্যুর তিন দশক পেরিয়ে গেলেও তার অকালমৃত্যুকে ঘিরে রহস্যের পুরোপুরি অবসান হয়নি। এটি আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড—এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা ও বিতর্ক রয়েছে।

তবে মৃত্যুর তিন দশক পরও তার জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েনি। নতুন প্রজন্মের কাছেও তার সিনেমা, গান, অভিনয় ও স্টাইল সমানভাবে আকর্ষণীয়।

সালমান শাহ নেই, কিন্তু তার সৃষ্টি ও স্মৃতি রয়ে গেছে। ঢালিউডের ইতিহাসে মাত্র চার বছরের ক্যারিয়ারে যে উজ্জ্বল দাগ তিনি রেখে গেছেন, তা তিন দশক পরও মুছে যায়নি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি হয়ে উঠেছেন আরও বেশি স্মরণীয়—বাংলা চলচ্চিত্রের এক অমর নায়ক।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও