শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

বাজারে সয়াবিনের টান, বাড়তি দামের শঙ্কা

চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক:

বাজারে আবারও দেখা দিয়েছে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহে ঘাটতি। চাহিদার তুলনায় কম তেল পাওয়ায় রাজধানীর অনেক খুচরা দোকানে মিলছে না এক, দুই ও পাঁচ লিটারের বোতল।

- Advertisement -

এর মধ্যেই ভোজ্যতেল উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো আরেক দফা দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। ফলে তেলের বাজারে নতুন করে অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সরবরাহ কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে খোলা তেলের বাজারেও। গত এক সপ্তাহে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম লিটারপ্রতি ২ থেকে ৪ টাকা বেড়েছে। একই সময়ে বেড়েছে ডিমের দামও। অন্যদিকে, ব্রয়লার মুরগি ও মাছের দাম দীর্ঘদিন ধরেই চড়া। সব মিলিয়ে নিত্যপণ্যের বাড়তি খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন সীমিত আয়ের মানুষ।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার ও কল্যাণপুর নতুন বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

খুচরা বিক্রেতারা জানান, কোম্পানিগুলো আগের তুলনায় কম পরিমাণে বোতলজাত সয়াবিন তেল সরবরাহ করছে। ফলে ডিলারদের কাছ থেকেও চাহিদা অনুযায়ী তেল পাচ্ছেন না তাঁরা। সরবরাহ কমে যাওয়ার পেছনে কোম্পানিগুলোর দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে ডিলারদের কাছ থেকে জানতে পেরেছেন তাঁরা।

মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারের কয়েকটি দোকান ঘুরে দেখা যায়, কোথাও এক লিটারের বোতল নেই, আবার কোথাও দুই লিটারের বোতল পাওয়া যাচ্ছে না। কোনো কোনো দোকানে সব মিলিয়ে চার-পাঁচটি বোতল রয়েছে। সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ না হলেও চাহিদার তুলনায় তা অনেক কম বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের মুদি বিক্রেতা ইমাম পাটোয়ারি জানান, তাঁর দোকানে প্রতিদিন প্রায় ১০ কার্টন সয়াবিন তেলের প্রয়োজন হয়। অথচ ডিলারের কাছ থেকে পেয়েছেন মাত্র চার কার্টন। নিয়মিত ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে কিছু বোতল আলাদা করে রাখতে হচ্ছে তাঁকে।

বোতলজাত তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় খোলা তেলের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে ক্রেতাদের। এতে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে খোলা সয়াবিন তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ বেড়ে লিটারপ্রতি ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে। খোলা পাম তেলের দাম শূন্য দশমিক ৮৮ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকা।

আবারও দাম বাড়ানোর উদ্যোগ

চলতি বছর কয়েক দফা সরবরাহ সংকটের পর এবারও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে সয়াবিন তেলের বাজারে। গত ফেব্রুয়ারিতে সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেওয়ার পর এপ্রিলের শেষ দিকে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি চার টাকা বাড়িয়ে ১৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়। জুলাইয়ে আবার সংকট দেখা দিলে ৩ সেপ্টেম্বর আরও পাঁচ টাকা বাড়িয়ে প্রতি লিটারের দাম ২০৪ টাকা করা হয়।

এবারও দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে ভোজ্যতেল পরিশোধন ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। এ বিষয়ে গত ২০ সেপ্টেম্বর বাণিজ্যসচিবকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড ভেজিটেবল ফ্যাট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন।

তবে আপাতত ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর পক্ষে নয় সরকার। গত বুধবার সিলেটে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ানোর দাবি জানালেও সরকার যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেবে। বিষয়টি পর্যালোচনা না করে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানো হবে না।

ডিম-মুরগি-মাছেও স্বস্তি নেই

সয়াবিন তেলের পাশাপাশি ডিম, মুরগি ও মাছের বাজারেও বাড়তি দামের চাপ রয়েছে। গত এক সপ্তাহে ডিমের দাম ডজনে প্রায় ১০ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায়। পাড়া-মহল্লার দোকানে এক হালি ডিম কিনতে গুনতে হচ্ছে ৫৫ টাকা। সে হিসাবে একটি ডিমের দাম পড়ছে প্রায় ১৪ টাকা।

অন্যদিকে, দুই মাস ধরে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিপ্রতি ২০০ টাকার আশপাশে রয়েছে। মাছের বাজারেও দাম কমেনি। বর্তমানে দুই থেকে আড়াই কেজি ওজনের রুই মাছ কেজিপ্রতি ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা এবং পাঙাশ ২৫০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

নিত্যপণ্যের বাড়তি দামে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষ। রাজধানীর শেখেরটেক এলাকার নিরাপত্তারক্ষী আনসার হোসেন বলেন, তাঁর সীমিত আয়ে সংসার চালাতে এমনিতেই কষ্ট হয়।

ব্রয়লার মুরগির দাম দুই-তিন মাসেও কমেনি। এর মধ্যে ডিমের দাম ডজনে ১৬০ টাকা হওয়ায় সংসারের খরচ সামলানো আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

বাজারে তেল, ডিম, মুরগি ও মাছের বাড়তি দামের কারণে সীমিত আয়ের মানুষের খাদ্যব্যয় আরও বাড়ছে। অন্যদিকে, সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকটের মধ্যে নতুন করে দাম বাড়ানোর উদ্যোগে ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও