চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’-এর সঙ্গে চুক্তি সইয়ের প্রতিবাদে আয়োজিত বামপন্থী দলগুলোর বিক্ষোভ সমাবেশে লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বেলা সাড়ে তিনটার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ (সাবেক বিডা) কার্যালয়ে পরবর্তী ১৫ বছরের জন্য বন্দর ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের মধ্যে এই ঐতিহাসিক কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
এর আগে বেলা দুইটা থেকে চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার প্রতিবাদে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাসদসহ বেশ কয়েকটি সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন ইনভেস্ট বাংলাদেশের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকে।
একপর্যায়ে বেলা পৌনে তিনটার দিকে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ওপর অতর্কিত লাঠিচার্জ চালিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। সিপিবির দাবি অনুযায়ী, পুলিশের বেপরোয়া লাঠিচার্জে দলটির সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দনসহ বহু নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন।
পুলিশি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সিপিবির সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, “সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোটের ব্যানারে আমরা নিউমুরিং টার্মিনাল ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে হস্তান্তরের চক্রান্তের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জানাতে এসেছিলাম। আমরা স্পষ্ট মনে করি, এ জাতীয় সম্পদ তুলে দেওয়ার চুক্তি প্রকারান্তরে বাংলাদেশকে বিকিয়ে দেওয়ার শামিল।”
তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, “ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে মার্কিন নৌবাহিনীর কৌশলগত সম্পৃক্ততা রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর তাদের হাতে তুলে দেওয়া মানে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আমেরিকান হস্তক্ষেপের সুযোগ করে দেওয়া। তারা আমাদের নৌ ও আকাশপথ ব্যবহারে আগ্রাসী ভূমিকা নেবে।”
দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় রাজপথে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে সিপিবি প্রধান হুঁশিয়ারি দেন, যারা আজ জাতীয় সম্পদ ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে হস্তান্তর করছেন, তারা ইতিহাসে দেশের ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে চিহ্নিত হবেন। জীবন ও শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও বামপন্থীরা দেশের বন্দর ও জাতীয় সম্পদ রক্ষায় লড়াই চালিয়ে যাবে।

