রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

হাটহাজারীতে অটোরিকশাচালক হত্যা মামলায় গ্রেফতার ৭, উদ্ধার রিকশার যন্ত্রাংশ

স্টাফ রিপোর্টার

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক মো. আব্দুল নুর তুষার (২২) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটন করেছে পুলিশ। দুই শতাধিক সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এ হত্যাকাণ্ড এবং ছিনতাই করা অটোরিকশা কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

- Advertisement -

তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছিনতাইকৃত অটোরিকশার তিনটি ব্যাটারি ও বডির অন্যান্য অংশ উদ্ধার করা হয়েছে।

গত ১ অক্টোবর বিকেল সোয়া ৫টার দিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানাধীন চিকনদণ্ডী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের যোগীরহাট থেকে খন্দকিয়া বাজারগামী ইটের সলিং রাস্তার পাশে একটি বিলের পানিতে তুষারের মরদেহ পাওয়া যায়। তাঁর গলায় রশি ও গামছা প্যাঁচানো ছিল। তবে ঘটনাস্থলে তাঁর ব্যবহৃত অটোরিকশাটি পাওয়া যায়নি।

ঘটনার পর চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের তত্ত্বাবধানে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল)-এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় হাটহাজারী থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল তদন্ত শুরু করে।

তদন্তের অংশ হিসেবে নিহতের বাড়ি বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকা থেকে হাটহাজারী পর্যন্ত দুই শতাধিক সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হয়। এর মাধ্যমে নিহত ও অভিযুক্তদের চলাচলের পথ শনাক্ত করেন তদন্তসংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যরা।

পুলিশের তদন্তে জানা যায়, অভিযুক্তরা বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন কুলগাঁওয়ের সাদ-মুছা গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির সামনে থেকে তুষারের অটোরিকশাটি ভাড়া নেয়। পরে তাঁকে নির্জন স্থানে নিয়ে রশি ও গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এরপর মরদেহ পাশের বিলে ফেলে অটোরিকশা ও মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।

পরবর্তী সময়ে ছিনতাই করা অটোরিকশাটি বিক্রির উদ্দেশ্যে ঠাণ্ডাছড়ি এলাকায় নিয়ে একটি অটোরিকশার ওয়ার্কশপে রাখা হয়। তদন্তে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের পাশাপাশি অটোরিকশাটি কেনাবেচার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও শনাক্ত করা হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় হাটহাজারী থানার এসআই আশিকুর রহমান, এসআই তানভীর আহমেদ ও এসআই আনিছুর রহমানের নেতৃত্বে গত ১৫ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা থেকে ১৬ অক্টোবর রাত ১১টা পর্যন্ত চৌধুরীহাট, সন্দ্বীপ কলোনি ও ঠাণ্ডাছড়ি এলাকায় অভিযান চালানো হয়।

এ সময় ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁরা হলেন—ইমরান হোসেন আপন (২৩), মো. বাবলু (২৫), মো. আকতার হোসেন (৩৬), মো. মারুফ (২৫), গোলাপ মোস্তফা (৩৫) ও মো. আলাউদ্দিন (২৫)।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতার ইমরান হোসেন আপনকে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ড ও অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা এবং পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেছে। অটোরিকশা কেনাবেচার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য গ্রেফতার ব্যক্তিদের কাছ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।

তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আকতার হোসেনের গ্যারেজ থেকে ছিনতাইকৃত অটোরিকশার তিনটি ব্যাটারি ও বডির অন্যান্য অংশ উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে।

এ ছাড়া গত ৭ অক্টোবর নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সিমসহ ঠাণ্ডাছড়ি এলাকা থেকে এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট অপর আসামি মো. রাসেল (২৫)-কে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাঁকে নিয়ে এ ঘটনায় গ্রেফতারের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাতজনে।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও