রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

প্রেমের ফাঁদে ফেঁসে খুন, লাশ খালে — পিবিআই উন্মোচন করল চাঞ্চল্যকর ঘটনা

চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক

রাঙামাটি জেলার চন্দ্রঘোনা থানার পশ্চিম কোদালা গ্রামের কৃষক দিদার আলম (২৮) হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), চট্টগ্রাম জেলা।

- Advertisement -

পিবিআই সূত্রে জানা যায়, রাঙামাটির চন্দ্রঘোনা থানায় দায়ের করা হত্যা মামলা (নং-০১, তারিখ: ২৭ জুলাই ২০২৫, ধারা ৩৬৪/৫০৬(২)/৩৪) আদালতের নির্দেশে তদন্তভার হস্তান্তর হয় পিবিআই চট্টগ্রাম জেলার কাছে।

তদন্তে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। নিহত দিদার আলমের স্ত্রী কহিনুর আক্তার (২৭)-এর সঙ্গে স্বামীর বন্ধু আব্দুল খালেক ও একই গ্রামের হানজালা নামে দুই ব্যক্তির পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। স্বামী দিদার বিষয়টি টের পেয়ে প্রতিবাদ করলে কহিনুর তার প্রেমিক হানজালাকে সঙ্গে নিয়ে স্বামীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

পিবিআই চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গাজীপুরের জয়দেবপুর এলাকা থেকে কহিনুর ও খালেককে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতের অনুমতিতে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদে কহিনুর হত্যার দায় স্বীকার করেন।

জবানবন্দিতে কহিনুর জানান, ৩০ জুন রাতে স্বামীকে গরুর দুধে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ান। গভীর রাতে স্বামী ঘুমিয়ে পড়লে তিনি বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। এরপর হানজালা ও সেলিম নামে দুই সহযোগীকে ডেকে লাশ ধান শুকানোর প্লাস্টিকে মুড়িয়ে পাশের খালে ফেলে দেন।

কহিনুরের জবানবন্দির ভিত্তিতে রাঙ্গুনিয়া থানার পশ্চিম কোদালা গ্রাম থেকে হানজালা ও সেলিমকেও গ্রেপ্তার করা হয়। তারাও আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

পিবিআই জানায়, আসামিদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে মামলার পুরো হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। নিহত দিদার আলমের মরদেহ উদ্ধারে অভিযান চলছে।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও