চট্টগ্রাম নগরের বাজারগুলোতে শীতের সবজি উঠতে শুরু করেছে, তবে দাম এখনো প্রত্যাশার তুলনায় বেশি। চকবাজার, বাকলিয়া, রেহানীয়া ও কৃষি মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে—সবজির সরবরাহ বাড়লেও তা দামে সন্তোষজনক প্রভাব ফেলেনি। ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, মুলা, বেগুনসহ বেশিরভাগ সবজি গত বছরের তুলনায় বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
শুক্রবার সকালে চকবাজারে কেনাকাটা করতে আসা এক ক্রেতা বলেন, গত বছর এই সময়ে ফুলকপি ৩০–৪০ টাকায় কিনেছেন। কিন্তু এ বছর একই কপির দাম ৫০–৬০ টাকা। তার ভাষায়, শীতের শুরুতেই তো সবজির দাম কম থাকার কথা, উল্টো এখন অতিরিক্ত দাম দিতে হচ্ছে।
বিক্রেতারা জানান, উৎপাদন এলাকাতেই সবজির দাম বেশি। আগাম চাষের সবজিতে কৃষকেরা ভালো দাম পাচ্ছেন, ফলে পাইকারি বাজারেও দাম বেশি পড়ে। গত অক্টোবরের বৃষ্টিতে অনেক ফসল নষ্ট হওয়ায় কৃষকেরা কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বেশি দামে বিক্রি করছেন। সরবরাহ ধীরে ধীরে বাড়লেও এখনো তা দাম কমানোর মতো পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
সবজির পাশাপাশি বাজারে পেঁয়াজের মূল্য এক মাস ধরে ১০০–১২০ টাকার মধ্যে স্থিতিশীল রয়েছে। নতুন কাঁচা পেঁয়াজ বাজারে আসায় দাম বাড়েনি, বরং স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে। কৃষকের স্বার্থে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি না দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তও বাজারকে স্থির রাখতে ভূমিকা রাখছে। আলুর বাজারেও তেমন অস্থিরতা নেই। দেশি পুরোনো আলু ২৫–৩০ টাকায় বিক্রি হলেও আগাম নতুন আলুর দাম এখনো অনেক বেশি—১৪০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি।
মাছ, মুরগি ও ডিমের বাজারে কোনো বড় পরিবর্তন নেই। ব্রয়লার মুরগি ১৭০–১৮০ টাকা, সোনালি মুরগি ২৮০–৩০০ টাকা এবং ফার্মের ডিম ১২০–১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বিক্রেতারা জানিয়েছেন, বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কিছুটা কম।
চট্টগ্রামের চালের বাজারে কিছুটা স্বস্তি এসেছে। আমন মৌসুমের নতুন চাল বাজারে উঠতে শুরু করায় সরু চাল নাজিরশাইল ও মিনিকেটের দাম কেজিতে ২ টাকা কমেছে। এখন এসব চাল ৭০ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মোটা চাল ইরি ও স্বর্ণা ৫৪ থেকে ৬০ টাকা এবং মাঝারিমানের চাল পাইজাম ও লতা ৫৮ থেকে ৭০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
সবজি ছাড়া অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকলেও শীতের শুরুতেই সবজির দাম বাড়তি হওয়ায় ভোক্তারা অস্বস্তিতে পড়েছেন। তবে বিক্রেতাদের আশা, দুই সপ্তাহের মধ্যেই সরবরাহ বাড়লে বাজারে সবজির দাম ধীরে ধীরে কমতে শুরু করবে।

