দীর্ঘ ২০ বছর ৭ মাস পর চট্টগ্রামে আসছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
“আগে অসৎ কাজ করলে সৎ শাসন সম্ভব নয়”—তারেক রহমান
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) পলোগ্রাউন্ড মাঠে বিএনপি আয়োজিত নিবাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেবেন তিনি।
২০০৫ সালে সর্বশেষ চট্টগ্রাম সফর করেন তারেক রহমান। ওইসময় তিনি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি’র মেয়র প্রার্থী মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনের জন্য ভোট চেয়ে আয়োজিত সভায় যোগ দেন।
রোববারের সমাবেশে ১০ লাখের বেশি জনসমাগম ঘটাতে চায় বিএনপি। সমাবেশ উপলক্ষে পলোগ্রাউন্ডে ১০০ ফুট দীর্ঘ ও ৬০ ফুট প্রশস্ত মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। চট্টগ্রাম এসে পুরাতন সার্কিট হাউজে অবস্থিত জিয়া স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করতে পারেন তারেক রহমান।
এই মহাসমাবেশ ঘিরে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
নগরের বিভিন্ন মোড় ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে এলাকা। বিভিন্ন স্থানে প্রস্তুতি সভা, স্বাগত মিছিল ও প্রচারণা কর্মসূচি চলছে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, মঞ্চের সামনে থাকবে নিরাপত্তাকর্মীরা। নিরাপত্তা তদারকির জন্য বিএনপির নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী ‘চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্স’ (সিএসএফ) শনিবার রাতে চট্টগ্রামে পৌঁছাবে।
এরপর নারী ও গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য আলাদা স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। তারপরের অংশে সমাবেশে যোগ নেওয়া কর্মীরা থাকবেন।
সফরসূচি অনুযায়ী, তারেক রহমান শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টা ৩৫ মিনিটে বিমানে চট্টগ্রামে পৌঁছাবেন এবং রাত্রিযাপন করবেন। রোববার সমাবেশে যোগ দেওয়ার আগে সকালে রেডিসন ব্লুতে একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। সমাবেশ শেষে তিনি সড়কপথে ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন নির্বাচনী সভায় যোগ দিবেন।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে মহানগর বিএনপির নেতারা তারেক রহমানের মহাসমাবেশের সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করেছেন। পুলিশ কমিশনার পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম-৯ আসনে বিএনপির প্রার্থী আবু সুফিয়ান বলেন, চট্টগ্রাম ও বিএনপির সম্পর্ক গৌরব, ত্যাগ ও সংগ্রামের ইতিহাসে আবদ্ধ। বীর চট্টলা থেকেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে জাতিকে মুক্তির পথে এগিয়ে নিয়েছিলেন। সেই মহান চেতনার ধারাবাহিকতায় ২০১২ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক জনসভা দেশবাসীর মনে আশার আলো জ্বালিয়েছিল। আজ সেই ঐতিহ্য বহন করে বীর চট্টলায় আসছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। চট্টগ্রামের সর্বস্তরের মানুষ জিয়া পরিবারের সুযোগ্য উত্তরসূরি তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত। পলোগ্রাউন্ডের মহাসমাবেশ গণমানুষের অংশগ্রহণে নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে এক ঐতিহাসিক অনুপ্রেরণার মাইলফলকে পরিণত হবে।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নিয়াঁজ মোহাম্মদ খান বলেন চট্টগ্রামজার্নালকে বলেন, দীর্ঘ ২০ বছর পর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান চট্টগ্রামে আসছেন। মহানগর বিএনপির উদ্যোগে প্রত্যেক ওয়ার্ডে উপ কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং প্রচারণা চালানো হচ্ছে। দলের নেতা-কর্মী ছাড়াও লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষের জনসমাগম হবে।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য কামরুল ইসলাম চট্টগ্রামজার্নালকে বলেন, বিএনপির প্রতি চট্টগ্রামের মানুষের প্রত্যাশা বেশি। বিএনপিকে তারা হৃদয়ে ধারণ করে। পলোগ্রাউন্ড মাঠে জনসমাবেশে ১৫ থেকে ২০ লাখ মানুষের সমাগম হবে বলে আমরা আশাবাদী। শুধু দলের নেতাকর্মীই নয়, সাধারণ মানুষও স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই সমাবেশে অংশ নিবেন।

