দেশের বাজারে আবারও বাড়ানো হয়েছে সোনার দাম। এবার ভরিপ্রতি সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৩৪৮ টাকা বাড়ানো হয়েছে, যা কার্যকর হয়েছে আজ বুধবার সকাল ১০টা ১৫ মিনিট থেকে। এতে দেশের বাজারে সোনার দামে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) বুধবার সকাল ১০টা ২৬ মিনিটে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সোনার নতুন দাম ঘোষণা করে। সাধারণত রাতে এ ধরনের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হলেও এবার ব্যতিক্রমীভাবে সকালে দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬৯ হাজার ৭৮৮ টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে ২১ ক্যারেট, ১৮ ক্যারেট এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দামও বাড়ানো হয়েছে।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার ভরিপ্রতি ৫ হাজার ২৪৯ টাকা বাড়ানো হয়েছিল সোনার দাম। সে দফায় ২২ ক্যারেট এক ভরি সোনার দাম দাঁড়ায় ২ লাখ ৬২ হাজার ৪৪০ টাকা। একদিনের ব্যবধানে আবারও বড় অঙ্কের দাম বাড়ায় স্বর্ণবাজারে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
করোনার পর গত পাঁচ বছরে দেশ ও আন্তর্জাতিক বাজার—উভয় ক্ষেত্রেই সোনার দাম দ্রুতগতিতে বেড়েছে। দেশের বাজারে ২০২৩ সালের ২১ জুলাই প্রথমবারের মতো এক ভরি সোনার দাম এক লাখ টাকা ছাড়ায়।
এরপর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেড় লাখ, অক্টোবরে দুই লাখ এবং চলতি বছরের গত বৃহস্পতিবার আড়াই লাখ টাকার মাইলফলক অতিক্রম করে।
বাজুস বরাবরের মতো জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পাকা সোনা) দাম বৃদ্ধির কারণে নতুন করে সোনার দাম বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববাজারে সোনার মূল্য বৃদ্ধিও এর অন্যতম কারণ।
গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববাজারে বর্তমানে প্রতি আউন্স সোনার দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ২৫৪ ডলারে, যা আগের তুলনায় প্রায় ১৬২ ডলার বেশি।
স্বর্ণের এই লাগাতার মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে বিয়েসহ সামাজিক অনুষ্ঠানে গয়না কেনা ক্রমেই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

