দেশে টিকার ভয়াবহ সংকট তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় গুদামে ১০টি রোগের টিকার মধ্যে অন্তত ৬টির মজুত শূন্যে নেমে এসেছে, যার প্রভাব পড়ছে শিশুস্বাস্থ্যে। ইতোমধ্যে হাম-এ আক্রান্ত হয়ে চলতি মাসেই ৪১ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টিকা কেনায় জটিলতা, সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং মাঠপর্যায়ে জনবল সংকট—এই তিনটি বড় কারণে পরিস্থিতি সংকটজনক হয়ে উঠেছে। ফলে শিশু ও মায়েরা নিয়মিত টিকা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যা নতুন করে রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন স্বীকার করেছেন, দেশে হামের সংক্রমণ বেড়েছে। তিনি জানান, দ্রুত টিকা সংগ্রহে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং শিগগিরই সরবরাহ স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বর্তমানে কেন্দ্রীয় গুদামে বিসিজি, পেন্টা, ওপিভি, পিসিভি, এমআর ও টিডি—এই গুরুত্বপূর্ণ টিকাগুলোর মজুত নেই। তবে আইপিভি ও টিসিভি টিকা জুন পর্যন্ত চলবে এবং এইচপিভি টিকা ডিসেম্বর পর্যন্ত মজুত রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে টিকাদান কর্মসূচিতে সফল দেশ হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক অব্যবস্থাপনা, প্রকল্প জটিলতা এবং নজরদারির ঘাটতির কারণে এই সফলতা এখন হুমকির মুখে পড়েছে।
এদিকে জনবল সংকটও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৩৭ জেলায় মাঠপর্যায়ে প্রায় ৪৫ শতাংশ স্বাস্থ্যকর্মীর ঘাটতি রয়েছে। ফলে কোথাও টিকা আছে কিন্তু কর্মী নেই, আবার কোথাও কর্মী আছে কিন্তু টিকা নেই—এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং কার্যকর নজরদারি জোরদার না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

