বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

ফুল ভাসিয়ে শুরু—চাকমাদের তিন দিনের বিজু উৎসব

পুরোনো বছরকে বিদায় এবং নতুন বছরকে বরণ করে নিতে চাকমা সম্প্রদায়ের তিন দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী বিজু উৎসব শুরু হয়েছে। রোববার (১২ এপ্রিল) ভোর থেকে নদী, ছড়া ও ঝরনায় ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে উৎসবের সূচনা হয়।

- Advertisement -

উৎসবের প্রথম দিন ‘ফুল বিজু’ নামে পরিচিত। এদিন পূজা-অর্চনার পাশাপাশি ঘরবাড়ি পরিষ্কার করে সাজানো হয়। চাকমা নারী-পুরুষ ও শিশুরা ফুল ভাসিয়ে সুন্দর পৃথিবী ও শান্তির জন্য প্রার্থনা করেন। নারীরা ঐতিহ্যবাহী পিনন-হাদি এবং পুরুষেরা ধুতি পরে উৎসবে অংশ নেন।

ভোরে পানছড়ি উপজেলার রাবার ড্যাম এলাকায় চেঙ্গী নদীতে গিয়ে দেখা যায়, ফুল ভাসাতে ভিড় করেছেন স্থানীয় চাকমা জনগোষ্ঠীর শত শত মানুষ।

স্থানীয় প্রবীণ বসুন্ধরা চাকমা জানান, বয়সের ভার থাকলেও নাতি-নাতনিদের সঙ্গে ফুল ভাসাতে এসে তিনি মানসিক শান্তি খুঁজে পান। তিনি বলেন, সবার জন্য শান্তি ও সহাবস্থানের প্রার্থনা করেছেন।

ফুল ভাসাতে আসা তরুণী প্রিসিলা চাকমা বলেন, বন্ধুদের সঙ্গে নদীতে ফুল ভাসিয়ে আগামী দিনের সুখ-শান্তি কামনা করেছেন। এই দিনটির জন্য সারা বছর অপেক্ষা করেন বলেও জানান তিনি।

উৎসব দেখতে আশপাশের সমতল এলাকা থেকেও অনেক মানুষ ভিড় করেন। কক্সবাজার থেকে আসা উপমা বড়ুয়া ও সালমা আক্তার জানান, এর আগেও এ উৎসব দেখে মুগ্ধ হয়েছেন, তাই আবারও উপভোগ করতে এসেছেন।

উল্টাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সুব্রত চাকমা বলেন, বিজু মানেই আনন্দ, মিলনমেলা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন দৃঢ় করা।

চাকমাদের এই উৎসব বাংলা বছরের শেষ দুই দিন ও নতুন বছরের প্রথম দিনজুড়ে পালিত হয়। প্রথম দিন ‘ফুল বিজু’, দ্বিতীয় দিন ‘মূল বিজু’তে থাকে অতিথি আপ্যায়ন ও ভোজ, আর তৃতীয় দিন ‘নববর্ষ’ উপলক্ষে বয়োজ্যেষ্ঠদের আশীর্বাদ নেওয়া ও পশুপাখিকে খাবার দেওয়ার মাধ্যমে উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও