বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

আন্দোলনের পথে বিরোধী দল, সরকারের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি

জুলাই সনদের আলোকে সংস্কার বাস্তবায়নের দাবিতে সারা দেশে আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “আন্দোলন শুরু হবে কি—শুরু তো হয়েই গেছে। এখন তিলে তিলে সেই আন্দোলনকে সফলতার দিকে নিয়ে যেতে হবে।”

- Advertisement -

সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি)-এর মুক্তিযোদ্ধা হল মিলনায়তনে ‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার: সংকটের মুখোমুখি দেশ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। ১১-দলীয় ঐক্য এ সেমিনারের আয়োজন করে।

তিনি বলেন, রাজপথের আন্দোলন সফল করেই বিরোধী দল ঘরে ফিরবে এবং এ আন্দোলনে দেশবাসীর সমর্থন কামনা করেন। তাঁর দাবি, বর্তমান সরকার, বিরোধী দলসহ রাজনৈতিক কাঠামোই জুলাই আন্দোলনের ফল এবং সেই আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষার বিপক্ষে গিয়ে কেউ পার পাবে না।

সংসদ প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী কণ্ঠ দমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। তবে সুযোগ থাকুক বা না থাকুক, তারা তাদের অবস্থান থেকে সরেননি বলেও উল্লেখ করেন। প্রয়োজনে সংসদে থাকবেন, তবে অধিকার রক্ষার সুযোগ না থাকলে সেখান থেকে সরে দাঁড়ানোর কথাও জানান তিনি।

রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্র ও কর্তৃত্ববাদী ধারা সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা আমাদের সন্তানদের কারও গোলাম বানাতে চাই না। কোনো পারিবারিক রাজতন্ত্র বাংলাদেশে মেনে নেওয়া হবে না।”

তিনি আরও বলেন, ব্যাংকিং খাতসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতে ‘দলীয়করণ’ হলে জনগণ তা প্রতিহত করবে। বিশেষ করে একটি বড় ইসলামী ব্যাংকের প্রসঙ্গ টেনে তিনি সতর্ক করে বলেন, এর অস্তিত্ব বিপন্ন হলে দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

সেমিনারে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, গণভোটের রায় উপেক্ষা করা হচ্ছে এবং সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি।

সভাপতির বক্তব্যে মামুনুল হক বলেন, বর্তমান সরকারের আচরণে অতীত শাসনের ছায়া দেখা যাচ্ছে এবং গণভোটকে অগ্রাহ্য করা হলে তা গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত।

সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের নেতারা।

সার্বিকভাবে সেমিনার থেকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, গণভোটের রায়ের প্রতি সম্মান এবং রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন জোরদারের আহ্বান জানানো হয়।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও