প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত গুজব ছড়ানো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, এসব গুজবের কারণে শিক্ষার্থীরা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
রোববার (২৬ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁও-এ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “প্রশ্নফাঁসের গুজব সরকারকে যেমন বিব্রত করে, তেমনি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি করে। তাই সবাইকে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, সরকার বিষয়টি নিয়ে সতর্ক রয়েছে এবং ইতোমধ্যে গণমাধ্যমে বিবৃতি দেওয়ার পরও যারা গুজব ছড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “টেলিগ্রাম গ্রুপের তথ্য যাচাই না করে সংবাদ প্রকাশ করা ঠিক হয়নি। শুধু ফেসবুকের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। ফেসবুকে তাৎক্ষণিক মন্তব্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমেরও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত ছিল।”
এর আগে ইউজিসির অনুষ্ঠানে বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশে বেকারত্ব কমাতে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখনো প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখতে পারছে না। শিক্ষা ব্যবস্থায় সমন্বয় জোরদারের মাধ্যমে উন্নয়ন ঘটানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি বলেন, “এইচএসসি পরীক্ষা জুনে, ফলাফল অক্টোবরের মাঝামাঝি, আর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হয় জানুয়ারিতে। এতে শিক্ষার্থীদের অনেক সময় নষ্ট হয়। এই সময় ব্যবধান কমাতে ইউজিসিকে সমন্বয়ের উদ্যোগ নিতে হবে।”
বিদেশে উচ্চশিক্ষায় গিয়ে মেধাপাচার হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে সঠিক পরিসংখ্যান তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর মান ও লক্ষ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
তরুণ প্রজন্ম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন,
“বর্তমান প্রজন্মের একটি অংশ ভাইরাল হওয়ার প্রবণতায় নৈতিকতা থেকে সরে যাচ্ছে। এমনকি শিক্ষার্থীরা অনেক সময় শিক্ষক বা মন্ত্রীদের প্রতিও অশালীন আচরণ করতে দ্বিধা করছে না।”
তিনি বলেন, দেশের ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ সঠিকভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তরুণদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে সবার সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মত দেন তিনি।

