চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটি থেকে জামায়াতপন্থী সহসভাপতি, সহসাধারণ সম্পাদকসহ সাত সদস্য পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে চলমান নির্বাচন প্রক্রিয়াও বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
বুধবার (২০ মে) বিকেলে ওই সাত সদস্য সমিতির কার্যালয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন।
পদত্যাগকারী সদস্যরা হলেন— সহসভাপতি আলমগীর মোহাম্মদ ইউনূস, সহসাধারণ সম্পাদক মো. ফজলুল বারী, তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক আবদুল জব্বার এবং নির্বাহী সদস্য হেলাল উদ্দিন, মোহাম্মদ মোরশেদ, মো. রোবায়তুল করিম ও মো. শাহেদ হোসাইন।
এর আগে ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ২১টি পদের বিপরীতে সমসংখ্যক প্রার্থী থাকায় সবাইকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি। নির্বাচিতদের মধ্যে ১৪ জন বিএনপিপন্থী এবং সাতজন জামায়াতপন্থী ছিলেন।
পদত্যাগের বিষয়ে জামায়াতপন্থী চট্টগ্রাম ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শামসুল আলম বলেন, “আমাদের প্যানেলের সাতজন বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। পাশাপাশি ২০২৬ সালের সমিতির নির্বাচনে বৈধ প্রার্থী তালিকায় থাকা আরও ১২ জন প্রার্থীও নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা আগেই নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছিলাম। কারণ বর্তমান নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষতা হারিয়েছে। একটি পক্ষের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য নির্বাচন আয়োজন করা হচ্ছে। এর প্রতিবাদে আমরা গত ৫ মে থেকে ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি।”
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার বলেন, “জামায়াতপন্থী সাতজন সদস্য পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তবে তারা অফিস সময়ের পরে কাগজ জমা দিয়েছেন। বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়নি।”
তিনি আরও বলেন, “সমিতির কমিটি বসে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। শুধু পদত্যাগপত্র জমা দিলেই তা কার্যকর হয়ে যায় না। নির্বাচন ও কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২১ মে) চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

