বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চার বছরের শিশুকে ধর্ষণ মামলা—আসামি মনিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন, বিচার শুরু

স্টাফ রিপোর্টার

চট্টগ্রাম মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফছা ঝুমা মঙ্গলবার (৯ জুন) বাকলিয়া থানার একটি ঘটনায় অভিযুক্ত মনির হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।

- Advertisement -

গত বৃহস্পতিবার পুলিশের দাখিল করা অভিযোগপত্র রোববার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়; পরদিন ট্রাইব্যুনাল অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন।

আদালতে অভিযুক্ত মনির হোসেন সোমবার উপস্থিত ছিলেন। মঙ্গলবার সকাল ১১টায় বিচারকার্য শুরু হলে তিনি ট্রাইব্যুনালে নিজপক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করবেন বলে জানান। আদালত ফ্যামিলির সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য এক ঘণ্টা সময় দিয়েছেন। এর আগে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে অভিযুক্তের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছিল।

ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী জানান, বুধবার (১০ জুন) সাক্ষী দাখিলের দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে অল্প সময়ের ব্যবধানে শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হচ্ছে।

পুলিশ বলেছে, গত ২১ মে বিকেলে বাকলিয়া থানার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের নুর হোসেন চেয়ারম্যানঘাটা এলাকার একটি গুদামকক্ষে চার বছরের শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়। শিশুটির বাবা মেহেদী হাসান বাদী হয়ে মামলা করলে তদন্তভার পান পুলিশ পরিদর্শক তানভীর আহমেদ। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন, আলামত সংগ্রহ, সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণ এবং চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি সংগ্রহ করেন। ভুক্তভোগী শিশুর ও অভিযুক্তের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পরদিন অভিযুক্ত মনির হোসেনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হলেও পরে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ভুক্তভোগী শিশুর জবানবন্দরও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২২ ধারায় রেকর্ড করা হয়েছে। চিকিৎসা প্রতিবেদন, ডিএনএ রিপোর্ট, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও জবানবন্দি পর্যালোচনার ভিত্তিতে অভিযোগের সত্যতা মেলেছে।

মামলায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৯(১) ধারায় মনির হোসেন (৩০) এর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। তিনি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ঘারঘাটা এলাকার বাসিন্দা; বর্তমানে চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়ার মিয়াখাননগরে বসবাস করছিলেন। মামলায় মোট ১৩ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার ও থানায় নেওয়ার সময় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে; কিছু লোক পুলিশ কর্মকর্তাদের কাজে বাধা দেয় ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও সাংবাদিক আহত হন।

পাশাপাশি কিছু পুলিশবাহী গাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে; এরপর আহত পুলিশ সদস্যদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চাক্তাই পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) মোবারক হোসেন ওই ঘটনায় বাদী হয়ে পৃথক একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ৫৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং আরও ৪০০–৫০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছিল।

আদালত সূত্র জানায়, পরবর্তী শুনানিতে সাক্ষ্য গ্রহণ ও অভিযোগের পক্কতা যাচাইয়ের মাধ্যমে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

সর্বশেষ

তেলের দাম বাড়তেই বাড়ল বাসভাড়া

এই বিভাগের আরও