প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে জনবান্ধব, শ্রমবান্ধব ও বাস্তবসম্মত আখ্যা দিয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, এ বাজেট দেশের শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে নতুন গতি সঞ্চার করবে। তিনি বলেন, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের কল্যাণকে গুরুত্ব দিয়ে প্রণীত এই বাজেট দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাবে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে নগরীর কাজীর দেউড়ি নাসিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয় মাঠে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের সমর্থনে চট্টগ্রাম বিভাগীয় শ্রমিক দলের আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বন্ধ কলকারখানা ও পাটকল পুনরুজ্জীবনের জন্য ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা শিল্পখাতকে পুনরায় সচল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একইসঙ্গে কৃষি কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিতে উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক হবে।
তিনি আরও বলেন, হৃদরোগীদের চিকিৎসা সহজলভ্য করতে হার্টের রিংয়ের দাম কমানোর উদ্যোগ সাধারণ মানুষের জন্য বড় স্বস্তি বয়ে আনবে। আগে উচ্চমূল্যের কারণে অনেক রোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হতেন।
মেয়র জানান, প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এ বাজেট বাস্তবায়নে সরকার কর রাজস্ব থেকে প্রায় ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। অবশিষ্ট অর্থ স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক উৎস থেকে সংগ্রহ করা হবে।
তিনি বলেন, বাজেট বাস্তবায়িত হলে নতুন নতুন শিল্প-কারখানা গড়ে উঠবে, বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে এবং বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে দেশের অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে।
জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৬ দশমিক ৫ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতির হার ৭ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণকে বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বাস্তবসম্মত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ডা. শাহাদাত হোসেন চট্টগ্রামের কৃতী সন্তান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এই বাজেট দেশের উন্নয়ন ও জনকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সমাবেশ শেষে বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে একটি বর্ণাঢ্য মিছিল বের করা হয়।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় শ্রমিক দলের সভাপতি এএম নাজিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর। এছাড়া বিএনপি ও শ্রমিক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।

