বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

১৪ মাস পর ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন, টিকাদান কেন্দ্রে উপচে পড়া ভিড়

নিজস্ব প্রতিবেদক

দীর্ঘ ১৪ মাস পর শুরু হয়েছে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন। রোববার (২৮ জুন) সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে চট্টগ্রাম জেলা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় টিকাদান কেন্দ্রগুলোতে অভিভাবকদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেছে।

- Advertisement -

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, অন্ধত্ব প্রতিরোধ, অপুষ্টি দূরীকরণ এবং শিশুদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে। ক্যাম্পেইন চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

চট্টগ্রাম জেলায় ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ৯৬ হাজার ৭৯ জন এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৭ লাখ ৪৬ হাজার ৯০ জনসহ মোট ৮ লাখ ৪২ হাজার ১৬৯ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য জেলায় ১৭টি স্থায়ী ও ৪ হাজার ৮০০টি অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ৯২ হাজার এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৪ লাখ ৭০ হাজার শিশুসহ মোট ৫ লাখ ৬২ হাজার শিশুকে ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ কার্যক্রম পরিচালনায় ৪১টি স্থায়ী ও ১ হাজার ২৮০টি অস্থায়ী কেন্দ্র চালু করা হয়েছে।

নগরের বিভিন্ন টিকাদান কেন্দ্রে সকাল থেকেই শিশুদের নিয়ে ভিড় করেন অভিভাবকরা। পশ্চিম বাকলিয়া নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক নুরুল আমিন বলেন, কোনো শিশু যেন বাদ না যায়, সে বিষয়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা সতর্ক রয়েছেন। তিনি অভিভাবকদের শিশুকে ভরা পেটে ক্যাপসুল খাওয়ানোর পরামর্শ দেন।

জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, ভিটামিন ‘এ’ শিশুদের রাতকানা রোগ প্রতিরোধ, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি, দীর্ঘমেয়াদি ডায়রিয়ার ঝুঁকি হ্রাস এবং শিশুমৃত্যু কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

চট্টগ্রাম জেলার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন সফল করতে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে নিকটস্থ কেন্দ্রে এনে ক্যাপসুল খাওয়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী প্রতিটি শিশুকে নীল রঙের এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রতিটি শিশুকে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে। কোনো শিশু বাদ পড়লে পরবর্তীতে ইপিআই কেন্দ্র থেকে ক্যাপসুল গ্রহণ করা যাবে।

উল্লেখ্য, দেশে সাধারণত বছরে দুইবার জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হলেও ক্যাপসুল সংকটের কারণে গত বছরের মার্চের পর থেকে কর্মসূচিটি বন্ধ ছিল। দীর্ঘ ১৪ মাস পর আবারও এই কর্মসূচি শুরু হলো।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও