আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, আগামী ডিসেম্বরের দিকে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা করছেন তিনি। তার সঙ্গে আওয়ামী লীগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাও আদালতের মুখোমুখি হবেন বলে জানান তিনি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এই প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে সরাসরি সাক্ষাৎকার দেন শেখ হাসিনা।
বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) গভীর রাত থেকে শুক্রবার পর্যন্ত প্রায় এক ঘণ্টার টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, দেশে ফিরে তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে, এমনকি প্রাণনাশের আশঙ্কাও রয়েছে। তবুও তিনি দেশে ফিরতে চান।
তার ভাষায়, “আমাকে গ্রেপ্তার করতে পারে, এমনকি হত্যাও করতে পারে। তারপরও আমাকে যেতে হবে। যদি মৃত্যুও হয়, আমি দেশের মাটিতেই মরতে চাই।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক মামলা ও দমন-পীড়ন চলছে। এ কারণেই তিনি দেশে ফিরে আদালতের মুখোমুখি হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনা দেশে ফেরার সম্ভাব্য সময় হিসেবে প্রথমবারের মতো ডিসেম্বর মাসের কথা উল্লেখ করেছেন। তবে কবে, কোন আদালতে বা কীভাবে আত্মসমর্পণ করবেন—সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেননি।
শেখ হাসিনা জানান, তার সঙ্গে আওয়ামী লীগের আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন। তাদের মধ্যে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও রয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও দলকে পুনর্গঠনের চেষ্টা চলছে। তিনি অনলাইনে দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ১২৫টি আসনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলেও জানান।
তিনি আরও বলেন, “তারা আমাকে দোষী সাব্যস্ত করতে পারে, আমি হয়তো নির্বাচনে অংশ নিতে পারব না। কিন্তু আওয়ামী লীগের কার্যক্রম কেন বন্ধ থাকবে? আমরা ভুল করে থাকলে সেই বিচার জনগণই করবে।”
রয়টার্স জানায়, শেখ হাসিনার এই সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিতে পারে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, রয়টার্স জানিয়েছে, শেখ হাসিনার বক্তব্যের বিষয়ে বাংলাদেশের সরকারের প্রতিক্রিয়া জানতে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

