দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে বাড়ছে মার্কিন ডলারের দাম। আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে গত তিন সপ্তাহে ডলারের গড় দর বেড়েছে ৬৩ পয়সা বা প্রায় শূন্য দশমিক ৫১ শতাংশ। এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে আমদানি ব্যয়ে এবং খোলা বাজারেও (কার্ব মার্কেট) ডলারের দাম বেড়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের সর্বোচ্চ দর ছিল ১২৩ টাকা ৫৫ পয়সা, সর্বনিম্ন ১২৩ টাকা এবং গড় দর দাঁড়ায় ১২৩ টাকা ৩৮ পয়সা।
অন্যদিকে কয়েকটি ব্যাংক নগদ ডলার বিক্রি করেছে ১২৪ টাকা ৫০ পয়সা দরে। আমদানির জন্য ঋণপত্র (এলসি) খোলার ক্ষেত্রে ডলারের দাম রাখা হয়েছে ১২৪ টাকারও বেশি। খোলা বাজারে ডলারের বিক্রয় মূল্য পৌঁছেছে ১২৬ টাকা ৬০ পয়সায়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার আন্তঃব্যাংকে ডলারের গড় দর ছিল ১২৩ টাকা। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার ছিল ১২২ টাকা ৯৭ পয়সা। আর তিন সপ্তাহ আগে, ২৪ জুন, গড় দর ছিল ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা।
এক বছর আগে, ২০২৫ সালের ৯ জুলাই আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলারের গড় দর ছিল ১২২ টাকা ১ পয়সা। সেই হিসাবে এক বছরে ডলারের দাম বেড়েছে ১ টাকা ৫৪ পয়সা, অর্থাৎ প্রায় ১ দশমিক ২৬ শতাংশ।
চাহিদা বাড়ায় দাম বৃদ্ধি
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, সরকারি কিছু বৈদেশিক পরিশোধের কারণে ডলারের চাহিদা বেড়েছে। চাহিদা বাড়ায় দামও বেড়েছে। তবে প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) প্রবাহ ঊর্ধ্বমুখী থাকলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে।
তিনি আরও জানান, বাজারে ডলারের চাহিদা বেশি থাকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিছুদিন ধরে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ডলার কিনছে না।
ব্যাংক ও খোলা বাজারে বাড়তি দর
রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক ও জনতা ব্যাংক বৃহস্পতিবার নগদ ডলার বিক্রি করেছে ১২৪ টাকা দরে এবং কিনেছে ১২৩ টাকায়।
বেসরকারি ইস্টার্ন ব্যাংক ও সিটি ব্যাংক ডলার বিক্রি করেছে ১২৪ টাকা ৫০ পয়সা দরে এবং কিনেছে ১২৩ টাকা ৫০ পয়সা দরে।
খোলা বাজারে বৃহস্পতিবার ডলার বিক্রি হয়েছে ১২৬ টাকা ৬০ পয়সা এবং কেনা হয়েছে ১২৬ টাকা ৩০ পয়সা দরে।
আইএমএফ সফর নিয়ে জল্পনা
বর্তমানে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার জন্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা সফর করছে। এ সময় ডলারের দাম বাড়ায় বাজারে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে।
তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেছেন, আইএমএফ প্রতিনিধি দলের সফর বা তাদের কোনো শর্তের সঙ্গে ডলারের দাম বৃদ্ধির সম্পর্ক নেই। মূলত বাজারে চাহিদা বেড়েছে বলেই ডলারের দাম বাড়ছে।
অন্যদিকে, একটি বেসরকারি ব্যাংকের একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আইএমএফ দীর্ঘদিন ধরেই বাজারভিত্তিক বিনিময় হার চালুর পরামর্শ দিয়ে আসছে। নতুন ঋণ কর্মসূচির আলোচনার প্রেক্ষাপটে ডলারের দর বাড়ানোর বিষয়টি নিয়েও ব্যাংক খাতে আলোচনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি।

