চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি), চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) এবং বন্দরের অন্য কোনো স্থাপনা বিদেশি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা না দেওয়ার দাবিতে মশাল মিছিল করেছে বন্দর রক্ষা কমিটি।
বুধবার (২২ জুলাই) সন্ধ্যায় চেরাগীর মোড় থেকে লালদীঘির পাড় পর্যন্ত এ মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে চেরাগীর মোড়ে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার এবং সঞ্চালনা করেন সদস্যসচিব ফজলুল কবির মিন্টু।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র এবং জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত একটি কৌশলগত স্থাপনা। বন্দরের লাভজনক টার্মিনাল বিদেশি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়া হলে জাতীয় অর্থনীতি, শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ও দেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তারা আরও বলেন, বন্দরের আধুনিকায়নের নামে জাতীয় সম্পদ বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। প্রয়োজনে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগেই বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়ন করা উচিত।
বক্তারা অভিযোগ করেন, জনমতের বিরোধিতা সত্ত্বেও সরকার ইজারা প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে ‘সাপোর্ট টিম’ গঠন করেছে, যা জনগণের মতামতের প্রতি অবজ্ঞার শামিল।
তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনগণের মতামত উপেক্ষা করে কোনো ইজারা চুক্তি করা হলে তা দেশের মানুষ মেনে নেবে না এবং ইতিহাসে তা জাতীয় স্বার্থবিরোধী ‘কালো চুক্তি’ হিসেবে বিবেচিত হবে।
সমাবেশ থেকে অবিলম্বে এনসিটি, সিসিটিসহ চট্টগ্রাম বন্দরের কোনো স্থাপনা ইজারা দেওয়ার সব ধরনের উদ্যোগ বন্ধের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।
সমাবেশে আগামী ২ আগস্ট সকাল ১১টায় আগ্রাবাদ বাদামতলীর মোড় থেকে বন্দর অভিমুখে পদযাত্রা কর্মসূচি ঘোষণা করেন বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার।

