বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মানবপাচার ও অনলাইন স্ক্যামে ‘জিরো টলারেন্স’, কঠোর অবস্থানে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক:

মানবপাচার ও প্রযুক্তিনির্ভর অনলাইন প্রতারণা দমনে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্র ও অনলাইন স্ক্যাম নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে।

- Advertisement -

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে বিশ্ব মানবপাচার বিরোধী দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত ‘প্রতারণার ফাঁদে বন্দি: জোরপূর্বক অপরাধে মানবপাচারের অবসান’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের জাতীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফয়সল হাসান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানবপাচারের ধরন দিন দিন পরিবর্তিত ও জটিল হচ্ছে। অপরাধী চক্রগুলো এখন ডিজিটাল মাধ্যম, ভুয়া অনলাইন চাকরির বিজ্ঞাপন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে তরুণ-তরুণী ও চাকরিপ্রার্থীদের টার্গেট করছে। উন্নত চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশে নিয়ে গিয়ে অনেককে সাইবার স্ক্যাম সেন্টারে আটকে নির্যাতন ও জোরপূর্বক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে বাধ্য করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এ ধরনের হুমকি মোকাবিলায় শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, আর্থিক সংস্থা, বেসরকারি খাত ও সচেতন নাগরিকদের সম্পৃক্ত করে সমন্বিত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

মানবপাচার প্রতিরোধে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ‘মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান (প্রতিরোধ ও দমন) আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। নতুন আইনে অনলাইন স্ক্যাম, প্রযুক্তিনির্ভর প্রতারণা এবং জোরপূর্বক অপরাধে বাধ্য করার মতো অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ‘মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন বিধিমালা, ২০১৭’ যুগোপযোগী করার কাজ চলছে। পাশাপাশি প্রতিরোধ, সুরক্ষা, বিচার ও অংশীদারত্ব—এই চারটি স্তম্ভকে গুরুত্ব দিয়ে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (২০২৬-২০৩০) চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে।

ভুক্তভোগীদের দ্রুত উদ্ধার ও পুনর্বাসনের বিষয়ে তিনি বলেন, ন্যাশনাল রেফারেল মেকানিজম (এনআরএম) আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে, যাতে মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিরা দ্রুত আইনি, চিকিৎসা, মানসিক ও পুনর্বাসন সহায়তা পান। একই সঙ্গে তথ্যভিত্তিক নজরদারি ও কেস ট্র্যাকিংয়ের জন্য একটি আধুনিক ডিজিটাল তথ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্মও তৈরি করা হচ্ছে।

তরুণ সমাজ, নারী ও বিদেশগামী কর্মপ্রত্যাশীদের নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে এবং ভুয়া নিয়োগ ও মানবপাচার চক্র সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যম ও সুশীল সমাজের সহযোগিতা কামনা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও