বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

একজনের নামে ১০ মামলা, আরেকজনের ৬—রায়হান বাহিনীর দুই সহযোগী গ্রেপ্তার

শাহরিয়ার মুনির জিসান

চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানে শীর্ষ সন্ত্রাসী চক্রে বড় ধরনের আঘাত হেনেছে পুলিশ। আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হানের দুই ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি উদ্ধার করা হয়েছে একটি বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও গুলি।

- Advertisement -

চট্টগ্রাম জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী চক্র নির্মূলে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে ধারাবাহিক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আসছে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

আধুনিক প্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও পেশাদার আভিযানিক কৌশলের সমন্বয়ে পরিচালিত এসব অভিযানে একের পর এক চিহ্নিত সন্ত্রাসী আইনের আওতায় আসছে।

গত ১৩ জুন চট্টগ্রাম মহানগরের পাহাড়তলী এলাকায় সংঘটিত বহুল আলোচিত মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটনে নিবিড় তদন্ত শুরু করে ডিবি পুলিশ।

ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ, প্রযুক্তিগত তথ্য এবং গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার (২ আগস্ট) রাত ৭টায় সীতাকুণ্ড থানাধীন শীতলপুরস্থ শাহ আমিন উল্লাহ ফিলিং স্টেশনের সামনে স্থাপিত বিশেষ চেকপোস্টে অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মো. দিদার আলম (৩০) ও মো. আফসার মিয়া (৩০)-কে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও অনুসন্ধানে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকায় সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তার এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত ছিল।

দিদার আলমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমসহ মোট ১০টি মামলা এবং আফসার মিয়ার বিরুদ্ধে একই ধরনের অপরাধে মোট ৬টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত একাধিক চাঞ্চল্যকর অপরাধেও তাদের সম্পৃক্ততার তথ্য তদন্তে উঠে এসেছে।

গ্রেপ্তার আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রোববার (৩ আগস্ট) রাত পৌনে ৩টার দিকে রাউজান থানাধীন ৭ নম্বর রাউজান ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব রাউজান (জুরুলকুল) এলাকায় আমির হোসেন ফকির বাড়ির এক ব্যক্তির বসতঘরের পেছনে সেফটি ট্যাংক সংলগ্ন মাটির নিচে সাদা প্লাস্টিকের বস্তার ভেতরে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন এবং ৭.৬৫ ক্যালিবারের দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানিয়েছে, সন্ত্রাস, অবৈধ অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও সংঘবদ্ধ অপরাধের সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না এবং গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান, প্রযুক্তিনির্ভর অনুসন্ধান ও পেশাদার আভিযানিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও আরও জোরালোভাবে অব্যাহত থাকবে।

সর্বশেষ

জলাবদ্ধতা নিরসনে সমন্বয়ে জোর

তেলের দাম বাড়তেই বাড়ল বাসভাড়া

এই বিভাগের আরও