চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো ব্যক্তি বা একক রাজনৈতিক দলের আন্দোলন ছিল না, বরং এটি ছাত্র-জনতা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, শ্রমিক, কৃষক ও পেশাজীবীসহ সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত আত্মত্যাগের ফসল।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে নগরের জামিয়াতুল ফালাহ মাঠে মহানগর বিএনপির উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত র্যালি-পূর্ব সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম।
আবু সুফিয়ান বলেন, দীর্ঘদিনের বৈষম্য, ভোটাধিকার হরণ, দমন-পীড়ন ও স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভই শেষ পর্যন্ত গণঅভ্যুত্থানে রূপ নিয়েছিল। তিনি বলেন, ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে কারও অবদান খাটো না করে প্রত্যেকের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ বলেন, প্রতিটি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে বিএনপির সমর্থন ছিল এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাসে অবিস্মরণীয় অধ্যায়। এই ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরা সবার দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, শহীদ, আহত এবং বছরের পর বছর গুম, খুন, কারাবরণ ও নির্যাতনের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের আত্মত্যাগের কারণেই দেশের মানুষ নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে। বৈষম্যহীন, জবাবদিহিমূলক, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার মধ্য দিয়েই শহীদদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল জাতির ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের ফল, যা দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয়েছে। তিনি বলেন, এই আন্দোলন ব্যর্থ হলে ফ্যাসিস্ট সরকার অনেক নেতাকর্মীকে ফাঁসি, গুম ও ক্রসফায়ার দিত, কিন্তু ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান প্রমাণ করেছে জনগণের ঐক্যবদ্ধ শক্তির কাছে কোনো স্বৈরাচার টিকে থাকতে পারে না।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান এবং কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য শামসুল আলম। এ ছাড়া মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এমএ আজিজ, অ্যাডভোকেট আব্দুস সাত্তার, সৈয়দ আজম উদ্দিন, কাজী বেলাল উদ্দিন, শফিকুর রহমান স্বপন, হারুন জামান, শাহ আলম, আরইউ চৌধুরী শাহীন, শওকত আজম খাজা, ইয়াসিন চৌধুরী লিটন, আহমেদুল আলম চৌধুরী (রাসেল), শিহাব উদ্দিন মুবিন, মঞ্জুরুল আলম মঞ্জুসহ মহানগর বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশ শেষে জামিয়াতুল ফালাহ মাঠ থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জিইসি মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। এতে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

