জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত অপরাধের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। তিনি বলেন, “অপরাধী যত শক্তিশালী হোক, তার বিচার এই দেশেই নিশ্চিত করা হবে। এটাই সরকারের সুদৃঢ় অঙ্গীকার এবং প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট নির্দেশনা।”
বুধবার (৫ আগস্ট) চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও জুলাই শহীদ পরিবার এবং বীর জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগ কোনো কিছুর বিনিময়ে পরিশোধ করা সম্ভব নয়। তাদের রক্তের প্রকৃত মর্যাদা দিতে হলে জনগণের সেবায় নিবেদিত, স্বচ্ছ, জবাবদিহি মূলক, গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, এটি কোনো একক দল বা গোষ্ঠীর আন্দোলন ছিল না; বরং দীর্ঘদিনের জুলুম, নির্যাতন, গুম, খুন ও অর্থনৈতিক শোষণের বিরুদ্ধে ছাত্র, শিক্ষক, শ্রমিক, পেশাজীবীসহ সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত প্রতিবাদের বহিঃপ্রকাশ।
গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে মীর হেলাল বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও দেশবিরোধী যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই।
রাষ্ট্রীয় সংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্যে সংবিধান সংশোধনের জন্য বিশেষ কমিটি কাজ শুরু করেছে। দেশের সব রাজনৈতিক দল ও অংশীজনের গঠনমূলক মতামতের ভিত্তিতে এই সংস্কার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক ইসরাফিল খসরু, বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী, জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমসহ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা শেষে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত বীর জুলাই যোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন প্রতিমন্ত্রী।

