বাংলাদেশ অয়েল অ্যান্ড গ্যাস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের এক জরুরি সভা গত ৫ আগস্ট চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদে সংগঠনের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় জ্বালানি খাতের শ্রমিক-কর্মচারীদের এই শীর্ষ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, বিক্রয় ও বিপণন কার্যক্রম বেসরকারি পর্যায়েও পরিচালনার সুযোগ করে দেওয়ার পাঁয়তারা চলছে অভিযোগ করে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তারা দেশের এই স্পর্শকাতর খাত বেসরকারিকরণের পরিকল্পনাকে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যায়িত করে যেকোনো মূল্যে তা প্রতিহত করার ঘোষণা দেন।
সম্প্রতি বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির সুযোগ তৈরিতে সম্ভাব্যতা যাচাই ও পর্যালোচনার নামে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কাছে চিঠি দিয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। এতে হতবাক ও বিস্মিত হন জ্বালানি খাতের সর্বস্তরের শ্রমিক-কর্মচারীরা।
সভায় নেতৃবৃন্দ এটাকে অশনিসংকেত হিসেবে উল্লেখ করে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানান এবং এই কার্যক্রমে জড়িতদের অবিলম্বে সরে আসার আহ্বান জানান।
ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কায়ছার হামিদ বলেন, সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে সরকারের মধ্যেই ঘাপটি মেরে থাকা মুখোশধারী ও সুবিধাবাদী কিছু কর্মকর্তা বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত তেল আমদানির সুযোগ করে দিতে চাইছে। এটি হলে দেশের মানুষ মুষ্টিমেয় কিছু ব্যবসায়ীর কাছে জিম্মি হয়ে পড়বে।
ইতোপূর্বে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির অনুমোদনের পর যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল, তা এর বড় উদাহরণ। তাই পরিশোধিত তেল আমদানির এই পরিকল্পনা কোনোভাবেই বাস্তবায়ন হতে দেওয়া যাবে না বলে জানান তিনি, এবং কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে এই ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার ঘোষণা দেন।
ফেডারেশনের মহাসচিব মুহাম্মদ এয়াকুব অভিযোগ করেন, স্পর্শকাতর জ্বালানি খাতে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে অস্থিরতা সৃষ্টির মাধ্যমে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে চায়।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সুপারিশ আমলে নিয়ে সরকার যেখানে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে, শ্রম আইনকে শ্রমিকবান্ধব করা ও শ্রমিক নেতাদের সুরক্ষার কথা বলছে, সেখানে জ্বালানি মন্ত্রণালয় ও বিপিসি উল্টো পথে হেঁটে তাদের কোণঠাসা করার অপচেষ্টা করছে।
বিশেষত, শ্রম আইনের ১৮৭ ধারা জ্বালানি খাতের শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের ক্ষেত্রে রহিত করার জন্য মন্ত্রণালয় ও বিপিসি শ্রম মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করেছে, যা শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
তিনি আরও বলেন, একটি কুচক্রী মহল শ্রমিক নেতাদের গায়ে কালিমা লেপনের মাধ্যমে ন্যায্য অধিকার আদায়ের পথ রুদ্ধ করে দিতে চায়। মিথ্যা অভিযোগে ঢালাওভাবে চরিত্রহনন কারো কাম্য হতে পারে না।
তিনি অভিযোগ করেন, বিপিসির আওতাধীন বিপণন কোম্পানির শ্রমিক-কর্মচারীরা দ্বিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে যেসব প্রান্তিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে আসছেন, তা কাটছাঁটের ষড়যন্ত্র চলছে। সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ের এক চিঠিতে প্রান্তিক সুবিধা পর্যালোচনার কথা উল্লেখ থাকায় এই আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে বলে জানান তিনি।
মহাসচিব স্পষ্ট করে বলেন, বিপণন কোম্পানিগুলো কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ ও বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর বিধান অনুযায়ী পরিচালিত হয় এবং শ্রমিক-কর্মচারীদের সব পাওনা শ্রম আইনের বিধান অনুযায়ী দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত হয়ে আসছে। কোম্পানি পরিচালনায় পরিচালনা পর্ষদ সর্বেসর্বা হলেও জ্বালানি মন্ত্রণালয় ও বিপিসির অযাচিত ও বেআইনি খবরদারি সহ্য করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
ইস্টার্ন রিফাইনারির সিবিএ সভাপতি দেওয়ান মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বক্তব্য রাখেন ইস্টার্ন রিফাইনারি এমপ্লয়ীজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুর রহমান, পদ্মা অয়েল কোম্পানি সিবিএ সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন, ফেডারেশনের অর্থ সম্পাদক হামিদুর রহমান, যমুনা সিবিএ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. নাসির, পদ্মা সিবিএ সাধারণ সম্পাদক সাহাদাত হোসেন, এলপিজির সিবিএ সভাপতি মনির হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক তবিরুল ইসলাম এবং পদ্মা সিবিএ অর্থ সম্পাদক ইয়াহিয়া আহাদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) আওতাধীন তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি এবং তেল বিপণন কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, এসএওসিএল, এলপিজি ও পাইপলাইন ট্রান্সমিশন কোম্পানির লেবার ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই ফেডারেশন।

