শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

‘সুখী-সমৃদ্ধ নতুন বাংলাদেশ’ দেখতে চান মির্জা ফখরুল

চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক:

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ‘সুখী-সমৃদ্ধ একটি নতুন বাংলাদেশ’ গড়ে ওঠার প্রত্যাশার কথা বলেছেন। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট শুরুর আগে গণমাধ্যমকে দেওয়া সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারে নিজের এই প্রত্যাশার কথা জানান তিনি।

- Advertisement -

বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে বঙ্গভবনের বাসিন্দা হতে চলা মির্জা ফখরুল বলেন, অনেক কিছু মিস করবেন তিনি, যা স্মরণ করলে আবেগ ধরে রাখতে পারেন না। সবাই ভালো, সুস্থ ও নিরাপদে থাকুক এবং কল্যাণমুখী রাষ্ট্র নির্মাণে সবাই সরকারকে সহযোগিতা করুক—এই দোয়া করেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি এমন একটি বাংলাদেশ দেখতে চান, যা তিনি মনে মনে স্বপ্ন দেখেন—একটি সুখী, সমৃদ্ধ, কল্যাণমুখী রাষ্ট্র। যেখানে প্রান্তিক মানুষ, খেটে খাওয়া জনগোষ্ঠী ও দিনে আনা দিনে খাওয়া শ্রমজীবীরা দুই বেলা পেট ভরে খেতে পারবে, সুস্থ পরিবেশে বসবাস করতে পারবে এবং নিরাপদে-নিশ্চিন্তে জীবনযাপন করতে পারবে। যেখানে দেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান হবে এবং নারী সমাজের জন্যও তৈরি হবে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ।

দীর্ঘদিন বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করা ফখরুল বলেন, বিশ্বের বুকে বাংলাদেশিরা একটি আত্মমর্যাদা সম্পন্ন জাতি হিসেবে নিজেদের পরিচিত করবে। তিনি বিশ্বাস করেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বেই বাংলাদেশ একটি জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র নির্মাণে সক্ষম হবে।

দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, প্রথমে তিনি শুকরিয়া আদায় করতে চান মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতি। এরপর কৃতজ্ঞতা জানান দেশবাসীর প্রতি, যাদের অধিকার আদায়ের দীর্ঘ সংগ্রামে তিনি সুখে-দুঃখে পাশে ছিলেন।

গণমাধ্যমসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। সবচেয়ে বেশি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি, যার নেতৃত্বে ‘প্রত্যাশিত বাংলাদেশ’ গন্তব্যে পৌঁছাবে বলে মনে করেন তিনি।

নিজের রাজনৈতিক জীবনের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, এই দিনে যাকে সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে, যার কথা ভেবে মন কাঁদে, তিনি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। এই মহিয়সী নারী নেত্রীর সান্নিধ্য ও স্নেহ পাওয়ার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, তার কথা মনে হলে আবেগ স্পর্শ করে, শিহরণ জাগায়।

বাম ঘরানার ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভাসানী ন্যাপের রাজনীতির মধ্য দিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে আসেন।

পরে জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগ দেন এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক পথপরিক্রমায় দলটির মহাসচিবের দায়িত্বও পালন করেন।

২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। পরে খালেদা জিয়ার সরকারে কৃষি এবং বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

সবশেষ তিনি বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সময় দল ও সরকারের দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দেন তিনি।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও