শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

নতুন পে স্কেলে ১৪২% পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি নিয়ে সতর্কতা

চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক:

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ফলে মূল্যস্ফীতি কিছুটা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তবে নতুন পে স্কেলে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের তুলনামূলক বেশি হারে বেতন বাড়ানোর মাধ্যমে গ্রেডভিত্তিক বৈষম্য কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

- Advertisement -

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা।

জাহেদ উর রহমান বলেন, দেশে দীর্ঘদিন ধরেই মূল্যস্ফীতি তুলনামূলক বেশি। বর্তমানে তা কিছুটা কমলেও সরকারি চাকরিজীবীদের একটি বড় অংশের বেতন বাড়লে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির কিছুটা ঝুঁকি রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এই পরিমাণ মানুষের কাছে যদি তাদের বেতন বৃদ্ধি পায়, কিছুটা মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি আছে। অনেক সিনিয়র কর্মচারীর বেতন ইনক্রিমেন্ট হতে হতে নতুন স্কেলের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। ফলে মানুষের হাতে অতিরিক্ত অর্থ যাওয়ার কারণে মূল্যস্ফীতি কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

তবে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে সরকারের বাজেট রয়েছে বলেও জানান তিনি।

নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন করা হয়েছে এবং তা ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের জন্য একটি রোডম্যাপও জানানো হয়েছে।

নতুন বেতন কাঠামোর দুটি বিষয়কে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান রয়েছে—এমন সরকারি কর্মচারীরা মাসে ৩ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন। এটিকে তিনি একটি ‘যুগান্তকারী পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

জাহেদ উর রহমান বলেন, ৩ হাজার টাকা দিয়ে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সব সমস্যার সমাধান হবে না। তবে তাদের চিকিৎসা, বিশেষ যত্ন ও শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা রাষ্ট্র স্বীকার করছে—এটি গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রের সক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ভাতার পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

নতুন পে স্কেলে উচ্চ ও নিম্ন গ্রেডের বেতন বৈষম্য কমানোর উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তথ্য উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, গ্রেড-১ ও গ্রেড-২০-এর মধ্যে বেতন-ভাতার ব্যবধান বাংলাদেশে অনেক বেশি। নতুন বেতন কাঠামোয় এ ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

জাহেদ উর রহমান জানান, প্রথম ১০টি গ্রেডে ধাপে ধাপে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বাড়বে। আর পরবর্তী ১০টি গ্রেডে বেতন বৃদ্ধির হার সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত হবে। এর ফলে গ্রেড-১ ও গ্রেড-২০-এর মধ্যে বিদ্যমান বেতন ব্যবধান কিছুটা কমে আসবে।

তিনি বলেন, ‘এটাও বৈষম্য কমানোর মতো একটি পদক্ষেপ বলে মনে করি।’

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও