সেপ্টেম্বর মাসের জন্য রান্নার কাজে ব্যবহৃত তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস তথা এলপিজির দাম কিছুটা কমিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১৩ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫৯৮ টাকা থেকে নামিয়ে আনা হয়েছে ১ হাজার ৫৮৫ টাকায়।
বিইআরসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নতুন এই দর বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
সেপ্টেম্বরের জন্য বেসরকারি এলপিজির খুচরা মূল্য মূসকসহ নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি কেজি ১৩২ টাকা ১২ পয়সা, যা অগাস্টে ছিল ১৩৩ টাকা ১৫ পয়সা।
অর্থাৎ কেজিপ্রতি দাম কমেছে ১ টাকা ৩ পয়সা। এই হিসাবে সেপ্টেম্বরের সমন্বয়ে ৫.৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৭২৭ টাকা, ১২.৫ কেজির ১ হাজার ৬৫২ টাকা, ১৫ কেজির ১ হাজার ৯৮২ টাকা এবং ১৬ কেজির ২ হাজার ১১৪ টাকা।
এ ছাড়া ১৮ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার ৩৭৮ টাকা, ২০ কেজির ২ হাজার ৬৪২ টাকা, ২২ কেজির ২ হাজার ৯০৭ টাকা, ২৫ কেজির ৩ হাজার ৩০০ টাকা এবং ৩০ কেজির দাম ৩ হাজার ৯৬৪ টাকা করা হয়েছে।
এর বাইরে ৩৩ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৪ হাজার ৩৬০ টাকা, ৩৫ কেজির ৪ হাজার ৬২৪ টাকা এবং ৪৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৫ হাজার ৯৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও কমানো হয়েছে। প্রতি লিটারের দাম ৫৮ পয়সা কমিয়ে ৭৩ টাকা ৬৭ পয়সা থেকে নামিয়ে আনা হয়েছে ৭৩ টাকা ৯ পয়সায়।
রেটিকুলেটেড পদ্ধতিতে তরল অবস্থায় সরবরাহ করা বেসরকারি এলপিজির দাম মূসকসহ নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি কেজি ১২৮ টাকা ৩৭ পয়সা, আর একই পদ্ধতিতে গ্যাসীয় অবস্থায় সরবরাহকৃত এলপিজির দাম প্রতি লিটার শূন্য দশমিক ২৮ টাকা বা প্রতি ঘনমিটার ২৮৫ টাকা ৩০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিইআরসি জানিয়েছে, সৌদি আরামকোর সেপ্টেম্বর মাসের প্রোপেন ও বিউটেনের সৌদি কনট্রাক্ট প্রাইস বা সৌদি সিপি অনুযায়ী এই নতুন দাম সমন্বয় করা হয়েছে।
সেপ্টেম্বরে প্রোপেনের সৌদি সিপি প্রতি মেট্রিক টন ৬২৫ ডলার এবং বিউটেনের ৬৬০ ডলার ধরা হয়েছে। প্রোপেন ও বিউটেনের অনুপাত ৩৫:৬৫ বিবেচনায় নিয়ে গড় সৌদি সিপি প্রতি মেট্রিক টন ৬৪৭ দশমিক ৭৫ ডলার হিসেবে ধরা হয়েছে, যা অগাস্টের গড় সৌদি সিপি ৬৩৩ ডলারের তুলনায় ১৪ দশমিক ৭৫ ডলার বেশি।
তারপরও দাম কমার কারণ, এলপিজি আমদানিতে জাহাজভাড়া ও ব্যবসায়ীর প্রিমিয়াম অগাস্টের ১৮০ ডলার থেকে কমিয়ে সেপ্টেম্বরে ১৬০ ডলার এবং ডলারের গড় বিনিময় মূল্য ১২৩ টাকা ৬৯ পয়সা থেকে কমিয়ে ১২৩ টাকা ৩০ পয়সা ধরা হয়েছে।
সরকারি এলপিজির দাম এবারও অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে, ১২.৫ কেজির সরকারি সিলিন্ডারের ভোক্তা পর্যায়ের দাম বহাল থাকছে ৭৭৬ টাকা ৯৩ পয়সা।
এর আগে অগাস্ট মাসের জন্য ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৭০ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৫৯৮ টাকা নির্ধারণ করেছিল বিইআরসি, সেই সঙ্গে অটোগ্যাসের দামও লিটারপ্রতি ৭৩ টাকা ৬৭ পয়সায় উন্নীত করা হয়েছিল।
তার আগে জুলাইয়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম এক ধাক্কায় ৩৫৭ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫২৮ টাকা এবং জুনে ৫৫ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৮৮৫ টাকা করা হয়েছিল।
এর আগে ১৯ এপ্রিল ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২১২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৪০ টাকা এবং ২ এপ্রিল ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৭২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল, অর্থাৎ এপ্রিলে দুই দফায় দাম বেড়েছিল মোট ৫৯৯ টাকা, এরপর জুন-জুলাইয়ে দুই দফায় কমেছিল মোট ৪১২ টাকা।
বিইআরসি সতর্ক করে জানিয়েছে, মজুদ ও বোতলজাতকরণ, পরিবেশক এবং খুচরা বিক্রেতাসহ কোনো পর্যায়েই কমিশন নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বোতলজাত এলপিজি, রেটিকুলেটেড এলপিজি বা অটোগ্যাস বিক্রি করা যাবে না।

