চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে প্রকাশ্যে গুলি করে তারেক হোসেন বাপ্পিকে হত্যা এবং তাপসির আলম শাওনকে গুরুতর আহত করার ঘটনায় মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রহস্য উদ্ঘাটন করেছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ।
এ ঘটনায় প্রধান আসামি মো. আরিফ হোসেনসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি এলজি, একটি রিভলভার ও একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে।
গত ১৬ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১০টা ৪৫ মিনিটে সীতাকুণ্ড মডেল থানাধীন বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের অলিনগর তিন রাস্তার মোড়সংলগ্ন পাকা রাস্তায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, রাতে খাবার খেয়ে বন্ধু ইমনকে নিয়ে মোটরসাইকেলে ঘটনাস্থলের দিকে যাচ্ছিলেন বাপ্পি। আগে থেকেই আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ওত পেতে থাকা অভিযুক্তরা তাঁদের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করেন। এরপর দুজনকে টেনে নামিয়ে মারধর করা হয়।
একপর্যায়ে প্রধান অভিযুক্ত আরিফ হোসেন বাপ্পিকে লক্ষ্য করে আগ্নেয়াস্ত্র তাক করেন। অন্যরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে আঘাত করেন। এ সময় ইমন কৌশলে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেন। পরে বাপ্পির বুকে গুলি করা হয়।
আরেকজনও তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। বাপ্পি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। গুলির শব্দ শুনে কাছেই থাকা শাওন বাপ্পিকে উদ্ধারে এগিয়ে এলে তিনিও হামলার শিকার হন।
তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। দুজনই রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকলে হামলাকারীরা তাঁদের ওপর আরও আঘাত করেন। পরে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে তাঁরা পালিয়ে যান।
তদন্তে প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানতে পেরেছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নিহত বাপ্পির সঙ্গে আরিফ ও তাঁর সহযোগীদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
বাপ্পি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অভিযুক্তদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে একাধিকবার সামাজিকভাবে ও মৌখিকভাবে সতর্ক করেছিলেন।
পূর্ববিরোধের জেরে বাপ্পিকে নিজেদের আধিপত্যের পথে বাধা মনে করে প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্তরা। সেই ধারাবাহিকতায় ঘটনার দিন অস্ত্রসহ আগে থেকেই ঘটনাস্থলে অবস্থান নিয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়ে বাপ্পিকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
ঘটনার পরপরই চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তৎপরতা শুরু করে। ঘটনাস্থলের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ, সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ ও ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন প্রধান আসামি মো. আরিফ হোসেন (২৯), পিতা ইসমাইল হোসেন প্রকাশ বিকষু, মধ্যম মাহমুদাবাদ, দিঘীর নালা, ফকির আহম্মদের নতুন বাড়ি, বাড়বকুণ্ড; ফখরুল ইসলাম (৩২), পিতা মৃত নুর আলম, অলিনগর, চৌকিদার বাড়ি, বাড়বকুণ্ড; আব্দুল মান্নান (২৮), পিতা আবুল কাশেম, নডালিয়া, বাড়বকুণ্ড; মো. ইফতেখার (৩৫), পিতা মো. মোজ্জামেল হক, অলিনগর, নতুন বদু বাড়ি, বাড়বকুণ্ড; আরিফুল ইসলাম জাবেদ (২৫), পিতা মো. নজরুল ইসলাম, হাসনাবাদ, জিয়াজি হুজরের বাড়ি, মুরাদপুর; এবং নুর আহাম্মদ রনি, পিতা মৃত জহির ইসলাম, মধ্যম মাহমুদাবাদ, দিঘীর নালা, বাড়বকুণ্ড, সীতাকুণ্ড।

