সবার সম্মিলিত সহযোগিতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম নগরীতে শারদীয় দুর্গোৎসব সুন্দর ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমী উপলক্ষে নগরের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে আয়োজিত প্রতিমা নিরঞ্জন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রতিমা বিসর্জন কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মেয়র বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে নগরের পূজা উদ্যাপন কমিটি, সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি সংস্থা এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। উৎসবের পরিবেশ সুন্দর রাখতে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে যোগাযোগ ও মতবিনিময় করা হয়। সবার আন্তরিকতা ও সহযোগিতার কারণেই উৎসবটি সুন্দরভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।
এ জন্য পূজা উদ্যাপন কমিটি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্বেচ্ছাসেবক, গণমাধ্যমকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ধর্মীয় উৎসব নির্বিঘ্নে উদ্যাপনের জন্য শুধু নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন নাগরিক সেবা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, চলাচলের উপযোগী সড়ক এবং উৎসবস্থলে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুবিধা। দুর্গাপূজা উপলক্ষে নগরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা, বিদ্যুৎ ও আলোকসজ্জার ব্যবস্থা সমন্বয়, সড়ক সংস্কার এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে সিটি করপোরেশন।
নাগরিকেরা যাতে স্বস্তি ও আনন্দের সঙ্গে ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব উদ্যাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে সিটি করপোরেশন দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট রয়েছে বলেও জানান মেয়র।
চট্টগ্রামের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম ঐতিহাসিকভাবেই বহুধর্মীয় সংস্কৃতি, সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের নগরী। এখানে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানসহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে পাশাপাশি বসবাস করছেন। একে অপরের ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়েই সামাজিক বন্ধন আরও শক্তিশালী হয়।
এক সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসবকে অন্য সম্প্রদায়ের মানুষের আনন্দের অংশ করে নিতে পারলে পারস্পরিক আস্থা বাড়বে এবং সামাজিক বিভাজন কমবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মেয়র আরও বলেন, দুর্গোৎসবের সফল সমাপ্তি সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। এই সহযোগিতার ধারা সারা বছর অব্যাহত রাখতে হবে। ধর্মীয় উৎসবের বাইরেও নগরের পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশ সংরক্ষণ, জননিরাপত্তা ও নাগরিক দায়িত্ব পালনে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সিটি করপোরেশন ও নগরবাসীর মধ্যে অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় হলে চট্টগ্রামকে শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের নগরী হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিজয়া দশমীর শুভেচ্ছা জানিয়ে মেয়র বলেন, প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটলেও সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও মানবিকতার চর্চা অব্যাহত রাখতে হবে। সব ধর্মের মানুষের নিরাপদে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে সিটি করপোরেশন ভবিষ্যতেও সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে।
অনুষ্ঠানে অধ্যাপক অর্পন কান্তি ব্যানার্জীর সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন অ্যাডভোকেট নিখিল নাথ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন অঞ্জন দত্ত। বক্তব্য দেন ক্যাপ্টেন শামীম, ডা. নুরুল আবসার, বিপ্লব দে পার্থ, সৌরভ প্রিয় পাল, আশুতোষ দে, বিপ্লব সেন ও সুজন কুমার শীল।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন রত্নাকর দাশ টুনু, শ্রী প্রকাশ দাশ অসিত, হিল্লোল সেন উজ্জ্বল, নটু চৌধুরী, সুকান্ত মহাজন টুটুল, প্রিয়তোষ ঘোষ রতন, প্রিয়তোবল, রিপন রায় চৌধুরী, অধ্যাপক অসীম দে, শ্যামল চৌধুরী, রাজন দাশ, অসিক দত্ত, চন্দন পালিত, অয়ন ধর, রাসেল দত্ত, উত্তম কুমার শীল, লিটন চৌধুরী, সৈকত মহাজন সাজুসহ অন্যরা।

