রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

মেয়র থেকে প্রশাসক—চসিকের দায়িত্বে শাহাদাত হোসেন

চট্টগ্রাম জার্নাল ডেস্ক:

আদালতের রায়ে মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া বিএনপি নেতা ডা. শাহাদাত হোসেনকে এবার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

- Advertisement -

রোববার (২৫ অক্টোবর) স্থানীয় সরকার বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে তাঁকে এ নিয়োগ দেওয়া হয়।

স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব জুয়েল রানা স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর ধারা ৪ অনুযায়ী পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত শাহাদাত হোসেন প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করবেন।

এ জন্য তিনি বিধি অনুযায়ী মাসিক সম্মানী ও অন্যান্য ভাতা পাবেন। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

এর আগে গত মার্চেও শাহাদাত হোসেনকে পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল স্থানীয় সরকার বিভাগ। তবে তখন এ বিষয়ে কোনো আদেশ জারি হয়নি। নির্বাচিত পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়া এবং মেয়র হিসেবে তাঁর দায়িত্ব পালনের মেয়াদ নিয়ে প্রশ্নের মধ্যে এবার তাঁকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলো।

মেয়াদের প্রশ্নে আলোচনা

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত পরিষদের মেয়াদ ও শাহাদাত হোসেনের দায়িত্ব পালন নিয়ে আগে থেকেই আলোচনা রয়েছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালে নির্বাচিত পরিষদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয় ২৩ ফেব্রুয়ারি। সে হিসাবে পরিষদের পাঁচ বছরের মেয়াদ চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়েছে।

তবে শাহাদাত হোসেন এর আগে দাবি করেছিলেন, আদালতের আদেশ অনুযায়ী ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত তাঁর মেয়াদ রয়েছে। অন্যদিকে স্থানীয় সরকার বিভাগের নথিতে বলা হয়েছে, আদালত তাঁকে মেয়র ঘোষণা করলেও মেয়াদের বিষয়ে আলাদা কোনো নির্দেশনা দেননি।

এর আগে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচন আয়োজনের জন্য গত ৩ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছিল স্থানীয় সরকার বিভাগ।

যেভাবে মেয়র হয়েছিলেন শাহাদাত

বিএনপি নেতা ডা. শাহাদাত হোসেন ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ওই নির্বাচনে ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী ৩ লাখ ৬৯ হাজার ২৪৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শাহাদাত হোসেন পান ৫২ হাজার ৪৮৯ ভোট।

নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলে ফলাফল বাতিলের দাবিতে ওই বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন শাহাদাত হোসেন। মামলায় তৎকালীন প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ নয়জনকে বিবাদী করা হয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রেজাউল করিম চৌধুরীকে মেয়র পদ থেকে অপসারণ করা হয়। একই বছরের ১৯ আগস্ট চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. তোফায়েল ইসলামকে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার।

পরে ১ অক্টোবর চট্টগ্রামের নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ খাইরুল আমীন শাহাদাত হোসেনের করা মামলার রায় দেন। রায়ে রেজাউল করিম চৌধুরীকে নির্বাচিত ঘোষণার সিদ্ধান্ত বাতিল করে শাহাদাত হোসেনকে মেয়র ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে ১০ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারির নির্দেশ দেওয়া হয়।

আদালতের নির্দেশে ৮ অক্টোবর নির্বাচন কমিশন শাহাদাত হোসেনকে মেয়র ঘোষণা করে সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি করে। এরপর ৩ নভেম্বর সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলনকক্ষে মেয়র হিসেবে শপথ নেন তিনি। তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফ তাঁকে শপথ পড়ান।

নির্বাচনের প্রায় তিন বছর নয় মাস পর মেয়রের দায়িত্ব পাওয়া শাহাদাত হোসেন এবার সরকারের নিয়োগে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও