সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

‘স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার অভিযোগে ভারতের পাল্টা কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়িতে গত কয়েকদিন ধরে অশান্তি বিরাজ করছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পেছনে ভারতের জড়িত থাকার অভিযোগ তুলেছেন বিভিন্ন মহল। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেনেন্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম ২৯ সেপ্টেম্বর বলেছিলেন, খাগড়াছড়িকে অশান্ত করার পেছনে ভারত বা ফ্যাসিস্টদের ইন্ধন আছে।

- Advertisement -

অবশেষে এই অভিযোগের বিষয়ে মুখ খুলেছে ভারত। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জসওয়াল জানিয়েছেন, খাগড়াছড়িতে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া অশান্তিতে ভারতের কোনো জড়িত থাকা প্রমাণ নেই।

তিনি বলেন, “আমরা এ ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করছি। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার আইন ও শাসন বজায় রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে এবং তাদের ব্যর্থতার দায় অন্য দিকে সরিয়ে দেয়।”

জসওয়াল আরও অভিযোগ করেছেন, কথিত উগ্রবাদীরা পাহাড়ি সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে ও তাদের ভূমি দখল করছে। তিনি ঢাকাকে সতর্ক করে বলেছেন, “নিজেদের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করুন এবং চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চলের সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও জমি দখলের ঘটনা তদন্ত করুন।”

খাগড়াছড়িতে অশান্তির প্রেক্ষাপটে গত ২৩ সেপ্টেম্বর সিঙ্গিনালা এলাকায় এক কিশোরীকে অচেতন করে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল। ভুক্তভোগীর বাবা তিনজনকে অজ্ঞাত আসামি দেখিয়ে থানায় মামলা করেন। পরদিন পুলিশ সন্দেহভাজন শয়ন শীলকে (১৯) গ্রেপ্তার করে।

মেডিকেল রিপোর্টে কিশোরী ধর্ষণের কোনো প্রমাণ পাওয়া না গেলেও, দুর্বৃত্তরা এই সময় শত শত ঘরবাড়ি ও দোকানে ভাঙচুর ও অগ্নিকাণ্ড ঘটায়।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট অভ্যুত্থানের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন। বাংলাদেশ সরকার বারবার অভিযোগ করেছে, ভারতে বসে শেখ হাসিনা দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আগেও উল্লেখ করেছিলেন, ভারত ও পতিত স্বৈরাচার মিলে খাগড়াছড়িতে অশান্তি তৈরির চেষ্টা করছে। তবে ভারত এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও