শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

আনোয়ারায় গ্রেফতার ভাসমান চোর, উদ্ধার স্বর্ণ-টাকা-মোবাইল

আনোয়ারা প্রতিনিধি:

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় এক দুঃসাহসিক চুরির ঘটনার মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই চুরি হওয়া স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোনসহ এক পেশাদার ভাসমান চোরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

- Advertisement -

আনোয়ারায় ট্রাক তল্লাশিতে বেহুন্দি জাল সহ ইলিশ জব্দ

গ্রেফতার মো. তৌফিকুল ইসলাম ওরফে হৃদয় (২২) চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার খানখানাবাদ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রেমাশিয়া এলাকার বাসিন্দা এবং মৃত নুরুল আমিনের পুত্র।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ভোরে আনোয়ারা উপজেলার মোহাম্মদপুর এলাকার একটি পাহাড়ের পাদদেশ থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে আনোয়ারা থানা পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ জানুয়ারি দিবাগত রাত আনুমানিক পৌনে ১২টা থেকে ১৫ জানুয়ারি ভোর ৫টার মধ্যে আনোয়ারা থানাধীন ৮ নম্বর চাতরী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ডুমুরিয়া এলাকায় নয়া মিয়া কন্ট্রাকটরের বাড়িতে এ চুরির ঘটনা ঘটে।

ওই বাড়ির মালিক আলী হোসেন (৬০) নিরাপত্তাজনিত কারণে তাঁর মেয়ের স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও একটি ডিপিএস জমার বই নিজের বসতঘরে সংরক্ষণ করে রেখেছিলেন।

ভোরে ফজরের নামাজ আদায়ের জন্য ঘুম থেকে উঠে তিনি ঘরের প্রধান দরজা খোলা দেখতে পান। পরে ঘরের একটি কক্ষে থাকা স্টিলের আলমারি ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়। আলমারির ভেতর থেকে প্রায় ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও একটি স্মার্টফোন চুরি হয়েছে বলে তিনি থানায় অভিযোগ করেন।

চুরি হওয়া মালামালের মধ্যে ছিল প্রায় এক ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের নেকলেস, ১২ আনা ওজনের দুই জোড়া কানের দুল, আট আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন, একটি ভিভো স্মার্টফোন, নগদ ১২ হাজার টাকা এবং একটি ডিপিএস জমার বই।

ঘটনার পরদিন ১৫ জানুয়ারি আলী হোসেন বাদী হয়ে আনোয়ারা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা রুজুর পরপরই আনোয়ারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শিমুল চন্দ্র দাসের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়।

গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে মাত্র দুই দিনের মধ্যেই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আনোয়ারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, “চুরির ঘটনার পর আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।”

গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তের কাছ থেকে একটি স্বর্ণের নেকলেস, একটি স্বর্ণের চেইন, দুই জোড়া কানের দুল, নগদ ৭ হাজার ৫০০ টাকা এবং একটি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তৌফিক চুরির ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। তাঁর বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক চুরির অভিযোগ রয়েছে বলে তদন্তে জানা গেছে। পৈতৃক বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় তিনি আনোয়ারা ও কর্ণফুলী এলাকায় ভাসমান অবস্থায় বসবাস করতেন এবং বিভিন্ন সময় বসতঘরে চুরি করে পাহাড়ি এলাকায় রাত্রিযাপন করতো।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও