শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তেলের দাম বৃদ্ধির চাপ: শুল্ক কমাল ভারত, রপ্তানিতে নতুন কর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভারত সরকার পেট্রল ও ডিজেলের ওপর আবগারি শুল্ক কমিয়েছে। একই সঙ্গে ডিজেল ও বিমান জ্বালানি রপ্তানির ওপর নতুন করে কর আরোপ করা হয়েছে।

- Advertisement -

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর ইরান-এ হামলার পর হরমুজ প্রণালী-তে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। উল্লেখ্য, এই প্রণালি দিয়ে ভারতের প্রায় ৪০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল আমদানি হয়।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে পেট্রলের আবগারি শুল্ক লিটারপ্রতি ১৩ রুপি থেকে কমিয়ে ৩ রুপিতে নামানো হয়েছে। একইভাবে ডিজেলের ওপর শুল্ক ১০ রুপি থেকে শূন্যে নামিয়ে আনা হয়েছে।

তবে এই সিদ্ধান্তে সরকারের কত রাজস্ব ক্ষতি হবে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, এতে বড় ধরনের রাজস্ব ঘাটতি তৈরি হতে পারে—বিশেষ করে কয়েকটি রাজ্যে নির্বাচন সামনে থাকায় সিদ্ধান্তটি রাজনৈতিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ।

ভারতের তেলমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চমূল্যের কারণে তেল কোম্পানিগুলো প্রতি লিটার পেট্রলে প্রায় ২৪ রুপি এবং ডিজেলে প্রায় ৩০ রুপি লোকসান দিচ্ছে। এই চাপ কমাতেই সরকার শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের ধারণা, এতে বার্ষিক রাজস্ব ক্ষতি প্রায় ১.৫৫ ট্রিলিয়ন রুপি হতে পারে। তবে তেল বিপণন কোম্পানিগুলোর ক্ষতি ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে আসবে।

ভারতে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানিগুলো খুচরা বাজারের প্রায় ৯০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে। আন্তর্জাতিক দামের সঙ্গে সবসময় অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম সমন্বয় না করায় কখনো সরকার, আবার কখনো কোম্পানিগুলো বাড়তি চাপ বহন করে—ফলে ভোক্তারা কিছুটা সুরক্ষা পান।

এদিকে সরকার ডিজেল রপ্তানিতে লিটারপ্রতি ২১.৫ রুপি এবং বিমান জ্বালানি রপ্তানিতে ২৯.৫ রুপি কর আরোপ করেছে। বড় রপ্তানিকারকদের মধ্যে রয়েছে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ।

অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ জানিয়েছেন, পেট্রল, ডিজেল ও জেট ফুয়েলের সরবরাহে কোনো ঘাটতি হবে না। একই সঙ্গে তেল বিপণন কোম্পানিগুলোকে সহায়তা দিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর মূল্যবৃদ্ধির চাপ কম রাখার চেষ্টা করা হবে।

বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ হিসেবে ভারতের জ্বালানি খাত আমদানিনির্ভর। এ পরিস্থিতিতে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার এলপিজি সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগও নিয়েছে।

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও