ঈদের আমেজ শেষ হলেও চট্টগ্রামের বাজারে স্বস্তি ফেরেনি। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এখনো সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে থাকায় চাপে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্রেতারা।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, বেশিরভাগ পণ্যের দাম এখনো উচ্চ পর্যায়েই রয়েছে। মাছের বাজারে ২০০ টাকার নিচে কোনো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না, যা ক্রেতাদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
মাংসের বাজারেও একই চিত্র। গরুর মাংস প্রতি কেজি ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা কমে ১৯৫ টাকায় এলেও অনেকের কাছে তা এখনো বেশি মনে হচ্ছে। অন্যদিকে সোনালি মুরগির দাম কেজিপ্রতি প্রায় ৩৪০ টাকা, যা অনেকটাই নাগালের বাইরে।
মাছের বাজারে পাঙ্গাশ ২০০ টাকা, তেলাপিয়া ২৩০ টাকা, রুই ২৪০ থেকে শুরু করে ৩,৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মৃগেল ২৫০-৩০০ টাকা, দেশি টেংরা ৬০০ টাকা, চিংড়ি ৫৫০ থেকে ৯০০ টাকা, শোল ৭০০ টাকা এবং কই-শিং জাতের মাছ ৪০০ টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে কথা হয় কয়েকজন ক্রেতার সঙ্গে। এক ক্রেতা বলেন, ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা কমলেও এখনও তা স্বস্তির নয়। সোনালি মুরগি এখন অনেকটাই বিলাসী পণ্যে পরিণত হয়েছে।
আরেকজন জানান, ঈদের পর দাম কমার আশা থাকলেও বাস্তবে তেমন কোনো পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, পরিবহণ ব্যয় বৃদ্ধি, সরবরাহ ঘাটতি এবং উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাজারে দামের চাপ বজায় রয়েছে। ফলে দ্রুত স্বস্তি ফেরার সম্ভাবনা কম।
সবজির বাজারেও একই অবস্থা। প্রায় সব ধরনের সবজির দাম ১৫ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ঢ্যাঁড়শ ১২০ টাকা, পটোল ১০০ টাকা, কাঁচামরিচ ১০০–১২০ টাকা, ঝিঙ্গা ও চিচিঙ্গা ১০০–১২০ টাকা, উচ্ছে ১০০ টাকা এবং বরবটি ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া লেবু প্রতি হালি ৫০–৬০ টাকা, টমেটো ৭০–৮০ টাকা, করলা ১৬০ টাকা, লাউ ৮০ টাকা, গোল বেগুন ১৬০ টাকা এবং লম্বা বেগুন ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে শিম ৫০–৭০ টাকা, ছোট মিষ্টি কুমড়া প্রতিটি ৬০–৭০ টাকা, পেঁপে ৫০ টাকা এবং গাজর ৫০–৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

