মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সম্ভাব্য কঠোর মুদ্রানীতির প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে টানা চতুর্থ সপ্তাহের মতো কমেছে সোনার দাম।
শুক্রবার (২৬ জুন) স্পট গোল্ডের দাম ০ দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২ দশমিক ৭৭ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে আগস্ট ডেলিভারির মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার্স মূল্য ০ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৭ দশমিক ৩০ ডলারে দাঁড়ায়।
সপ্তাহজুড়ে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম প্রায় ৩ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে। এর আগে বুধবার ২০২৫ সালের নভেম্বরের পর প্রথমবারের মতো প্রতি আউন্স সোনার দাম ৪ হাজার ডলারের নিচে নেমে যায়।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ফেডারেল রিজার্ভ আরও দ্রুত সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন প্রত্যাশায় মার্কিন ডলার শক্তিশালী হয়েছে। এর ফলে অন্যান্য মুদ্রার বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বর্ণ কেনার ব্যয় বেড়েছে, যা সোনার দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে।
বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ওএএনডিএ-এর জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক কেলভিন ওং বলেন, ফেডের কঠোর অবস্থানকে কেন্দ্র করে বাজারে দ্রুত মূল্য সমন্বয় হয়েছে এবং ডলারের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা সোনার দামে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
তিনি আরও বলেন, চলতি বছরের শুরুতে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর পর সোনার বাজারে যে দীর্ঘমেয়াদি সংশোধন শুরু হয়েছে, তা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ৪০০ ডলার পর্যন্ত নেমে আসতে পারে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৫৯৪ দশমিক ৮২ ডলারে উঠেছিল। এরপর থেকে মূল্যবান এই ধাতুর দাম প্রায় ২৯ শতাংশ কমেছে।

