বিশ্বকাপে অভিষেকেই দুর্দান্ত লড়াই উপহার দিল কেপ ভার্দে। তবে শ্বাসরুদ্ধকর এই লড়াইয়ের শেষ হাসি হাসল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। অতিরিক্ত সময়ে প্রতিপক্ষের আত্মঘাতী গোলে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে লিওনেল স্কালোনির দল।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। তবে কেপ ভার্দের সুশৃঙ্খল রক্ষণ এবং গোলরক্ষক ভোজিনহার দৃঢ়তায় বারবার ব্যর্থ হচ্ছিল আলবিসেলেস্তেরা।
অবশেষে ২৯তম মিনিটে লিসান্দ্রো মার্টিনেজের নিখুঁত লং বল থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন লিওনেল মেসি। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা।
দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ৫৯তম মিনিটে রায়ান মেন্দেসের কাটব্যাক থেকে ডেরয় দুয়ার্তে জোরালো শটে গোল করে সমতা ফেরান কেপ ভার্দের হয়ে। এরপর একাধিক সুযোগ পেলেও গোলের দেখা পায়নি আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত সময় শেষ হয় ১-১ সমতায়।
অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় মিনিটেই (৯২’) কর্নার থেকে পাওয়া বলে লিসান্দ্রো মার্টিনেজ দুর্দান্ত শটে আবারও এগিয়ে দেন আর্জেন্টিনাকে।
তবে হার মানেনি কেপ ভার্দে। ১০৩তম মিনিটে সিডনি লোপেজ ক্যাবরাল দূরপাল্লার দৃষ্টিনন্দন শটে আবারও সমতায় ফেরান দলকে।
ম্যাচ যখন টাইব্রেকারের দিকে এগোচ্ছিল, তখন ১১১তম মিনিটে আসে সিদ্ধান্তসূচক মুহূর্ত। লিওনেল মেসির নেওয়া কর্নার থেকে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর হেড ডিনে বোর্জেসের গায়ে লেগে জালে জড়িয়ে যায়। আত্মঘাতী গোল হিসেবে নথিভুক্ত হওয়া সেই গোলেই ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।
শেষ দিকে সমতায় ফেরার আরও একটি সুযোগ পেয়েছিল কেপ ভার্দে। তবে সিডনি ক্যাবরালের ফ্রি-কিক দারুণ দক্ষতায় ফিরিয়ে দেন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। শেষ পর্যন্ত নাটকীয় জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা।
ম্যাচজুড়ে কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহা ছিলেন দলের অন্যতম সেরা পারফরমার। তিনি আটটি সেভ করে আর্জেন্টিনার একাধিক নিশ্চিত গোল ঠেকান। তবুও শেষ পর্যন্ত ভাগ্য সহায় হয়নি আফ্রিকার দেশটির। অন্যদিকে টানা জয় ধরে রেখে শেষ ষোলোর মিশনে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

