বিশ্ববাজারে বুধবার জ্বালানি তেলের দামে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে আবারও অপরিশোধিত তেল সরবরাহ শুরু এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনায় তেলের বাজারে এই দরপতন হয়েছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার ০১:১৯ জিএমটি পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দাম ৭ সেন্ট বা ০.০৭ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৯.১৮ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ৩৫ সেন্ট বা ০.৩৯ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯০.১৭ ডলারে দাঁড়ায়।
তেলের বাজারে দরপতনের অন্যতম কারণ হিসেবে সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে সরবরাহ পুনরায় চালুর বিষয়টি সামনে এসেছে। সেপ্টেম্বরের শুরুতে হামলার পর পাইপলাইনটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সৌদি আরবের লোহিত সাগর দিয়ে তেল রপ্তানিতে বিঘ্ন তৈরি হয়েছিল। মঙ্গলবার পাইপলাইনটিতে আবার কার্যক্রম শুরু হয়।
সৌদি আরবের এই বিকল্প সরবরাহপথ পুনরায় চালু হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, পাইপলাইনটি দিয়ে প্রাথমিকভাবে সীমিত হারে তেল সরবরাহ শুরু হয়েছে এবং পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনাও বাজারে প্রভাব ফেলছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে বাজারে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমালে ও অবরোধ শিথিল করলে তেহরান এক সপ্তাহের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের বড় একটি অংশ পরিবাহিত হয়। ফলে ওই অঞ্চলের উত্তেজনা কমার সম্ভাবনা তেলের সরবরাহ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ ও বাজারের ঝুঁকি-প্রিমিয়াম কমাতে ভূমিকা রাখছে।
সব মিলিয়ে সৌদি আরবের তেল সরবরাহের বিকল্প পথ সচল হওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনা বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে নিম্নমুখী চাপ তৈরি করেছে।

